


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং আর্থিক অসহায়তা। বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি তাঁরই মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এহেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সফল অস্ত্রোপচার করে দৃষ্টান্ত গড়ল নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সোমবার ওই অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূর সিজার করা হলে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
জানা গিয়েছে, শান্তিপুর বাগআঁচড়া এলাকার বাসিন্দা সন্তু সাঁতরা ও তাঁর স্ত্রী গঙ্গাদেবী দু’জনেই বিশেষভাবে সক্ষম। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিও শোচনীয়। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় গঙ্গাদেবীর। অসহায় হয়ে পড়েন সন্তুবাবু। যন্ত্রণায় কাতর স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার গাড়ি ভাড়াটুকু তাঁর সাধ্যের বাইরে। অবশ্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় শেষমেশ গঙ্গাদেবীকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ পবিত্র ব্যাপারী সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি করে নেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় ওই গৃহবধূর অস্ত্রোপচার ছিল বেশ জটিল। সাধারণত এই সমস্ত ক্ষেত্রে গর্ভবতী মহিলাদের বড় হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। যদিও এক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল টিম গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর সফল অস্ত্রোপচারে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় গঙ্গাদেবী জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অস্ত্রোপচারের পর মা ও সদ্যোজাত শিশু দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক পবিত্রবাবু বলেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। গরিব পরিবার। সেই জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে তাঁরা চরম বিপদে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অন্যত্র রেফার করলে হয়রানি আরও বাড়ত। তাই আমরা সেই পথে না হেঁটে নিজেরাই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তা সফল হয়েছে। এটা আমাদের আলাদা অনুভূতি দিল।
শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন বলেন, এই ধরনের শারীরিক সমস্যার ফলে অস্ত্রোপচার করা বেশ জটিল। কিন্তু, সব রকম পরিস্থিতিতে আমরা পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর। পরিবারটিকে আমরা বাড়তি সমস্যায় ফেলতে চাইনি। আমাদের চিকিৎসক পবিত্রবাবু অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শান্তিপুর হাসপাতালের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে তুললেন।
ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসক ও হাসপাতালের কাছে তাঁরা কৃতজ্ঞ। কারণ রেফার করলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। সন্তানের মুখে হাসি দেখে গঙ্গাদেবীর চোখে জল। আবার নতুন আশার আলো ফিরল এই বিশেষভাবে সক্ষম পরিবারে। হাসপাতালের মানবিক উদ্যোগে খুশি গোটা
গ্রামও। -নিজস্ব চিত্র