


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ধর্ম বেছে বেছে জঙ্গিদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আজও ভোলেনি গোটা দেশ। জবাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুর’ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি। সোমবার কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর ‘কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্সে’র উদ্বোধনে এসে অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জাতি গঠন, জলদস্যু দমন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন এবং মানবিক সহায়তা থেকে দুর্যোগে ত্রাণ প্রদান নিয়েও সেনার ভূমিকাকে প্রশংসা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম বা বিজয় দুর্গে এই কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। এদিনের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী-সহ তিন বাহিনীর প্রধানরা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সেক্রেটারি, ডিআরডিও কর্তৃপক্ষ সহ উচ্চ পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘সংস্কারের বছর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষম অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বিশেষত অপারেশন সিন্দুরের পরবর্তী নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। আগামী দুবছরের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ভিশন-২০৪৭ এর কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ফোর্ট উইলিয়ামের উদ্বোধনের পর বিহারের কর্মসূচিতে গিয়ে যোগ দেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে কমান্ডারদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। শেষদিন অর্থাৎ, আগামীকাল বক্তব্য রাখবেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ।