নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো রুটের কাজ চলছে। এই রুটে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত অংশের কাজ প্রায় শেষ। শুধুমাত্র চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ বাকি। এটুকু হয়ে গেলেই নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো চলাচলের ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা থাকবে না। কিন্তু সামান্য এই অংশের কাজ শুরু নিয়েই চলছে বিস্তর গড়িমসি। সম্প্রতি কলকাতা পুলিস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চিংড়িঘাটায় সাবওয়ে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-কে মেট্রোর কাজের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এর ফলে মেট্রোর কাজ অন্তত ৬ থেকে ১০ মাস পিছিয়ে যাবে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আদৌ কি কাজ শেষ করার সদিচ্ছা আছে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলির?
সূত্রের খবর, গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চিংড়িঘাটার এই অংশে কাজ শুরুর অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিসের দ্বারস্থ হয় আরভিএনএল। একাধিকবার বলা হয়, ১৫ দিনের জন্য রাত ১১টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত ‘ট্রাফিক ব্লক’-এর অনুমতি দেওয়া হোক। তারপর প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। পুলিসের অনুমতি মেলেনি। অভিযোগ, নানা অজুহাতে এই অনুমতি দিতে টালবাহানা করছে ট্রাফিক পুলিস। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ক্যাপ্টেন ভেড়ির উপর দিয়ে এবং বেলেঘাটা স্টেশনের পাশ দিয়ে সার্ভিস রোড তৈরি হয়ে গেলেই এই অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু সেই কাজ হয়ে যাওয়ার পর কলকাতা পুলিসের নতুন ‘ছুতো’, সাবওয়ে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত চিংড়িঘাটায় কাজের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কলকাতা পুলিসের একটি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত সাবওয়ে নির্মাণের জন্য আরভিএনএল ও রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ করে টাকা দেবে। সাবওয়ে তৈরি না হলে ‘ট্রাফিক ব্লক’-এর অনুমতি দিতে রাজি নয় পুলিস। তাদের আশঙ্কা, একবার ওই অংশ জোড়া হয়ে গেলে আর সাবওয়ে তৈরি করবে না আরভিএনএল।
এদিকে, একটি সাবওয়ে তৈরি করতে কমপক্ষে ৬ মাস লাগে। টেন্ডার ডাকা থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মিলিয়ে আট থেকে দশ মাস লেগে যায়। ফলে নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো আপাতত অথই জলে! অথচ এই লাইন চালু হয়ে গেলে সল্টলেক ও নিউটাউনের প্রায় ছ’লক্ষ বাসিন্দা ছাড়াও হাজার হাজার অফিসযাত্রীর প্রভুত সুবিধা হবে। সেই সঙ্গে ই এম বাইপাসে যানবাহনের চাপ যেমন কমবে, তেমনই হ্রাস পাবে চিংড়িঘাটায় যানজট ও দুর্ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিস আধিকারিক স্বীকার করছেন, সদিচ্ছা থাকলে (মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ) হাইকোর্ট এবং স্কুলে গরমের ছুটির সময় এই অনুমতি দেওয়া যেত। আসলে শীর্ষকর্তারা দায় এড়াতে চাইছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিসের ডিসি (ট্রাফিক) ওয়াই এস জগন্নাথ রাওকে বারবার ফোন করা হয়। পাঠানো হয় মেসেজ। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। যদিও ট্রাফিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিস কমিশনার শুভঙ্কর সিনহা সরকার বলেছিলেন, ‘এনিয়ে যা বলার, ডিসি (ট্রাফিক) বলবেন।’ উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চিংড়িঘাটায় এক পথ দুর্ঘটনার পর এই সাবওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সাত বছর পর এতদিনে পুলিস ফের সাবওয়ে নিয়ে তৎপর হয়েছে।