নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: প্রায় টানা দু’দিন। মঙ্গল ও বুধবারের বৃষ্টিতে ভাসল বেশ কিছু জায়গা। ব্যাহত জনজীবন। কলকাতা সংলগ্ন চার জেলায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বুধবার দুপুরের প্রবল বৃষ্টিতে বারাকপুরের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বারাকপুর স্টেশনের কাছ থেকে চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত এস এন ব্যানার্জি রোডে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। জল দাঁড়িয়েছে আনন্দপুরী এবং রবীন্দ্রপল্লি এলাকায়। মোহনপুর, ভাটপাড়া নৈহাটির সাহেব কলোনি মোড় এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন পথ চলতি মানুষ। বৃষ্টির জমা জলে পড়ে ডোমজুড়ের মাকড়দহ মৃত্যু হল এক যুবকের। নাম সহদেব বাছার (৩০)। সহদেব মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ হয়ে জলে পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, নাকি অন্য কারণে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বারুইপুর পুরসভায় ইতিমধ্যে জমা জলে নাজেহাল মানুষ। বুধবার সকালে নতুন করে বৃষ্টিতে জলমগ্ন পুরসভার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। শোচনীয় অবস্থা ২, ৪, ১০, ১১, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের। বাড়ির ভিতর জল জমে গিয়েছে। রাস্তায় জল। সেখানে সাপ ঘুরছে। নর্দমার জল ও বৃষ্টির জল মিলেমিশে একাকার। ট্যাপ কল জলের তলায়। বেহাল নিকাশি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। বারুইপুর মেন পোস্ট অফিসেও জল জমেছে। জল বিভিন্ন স্কুলে। অভিযোগ, উদাসীন পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও জল জমেছে হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সকাল থেকেই শিবপুর, উত্তর হাওড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাস্তা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে জল। চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। লিলুয়ার বি রোড, সি রোড, মিরপাড়া, দাসপাড়া, কুমারপাড়া ও হরিশ কলোনি এলাকায় সকাল থেকেই জল জমে যায়। বেলগাছিয়া, ভট্টনগরের রথতলা-বটতলা, কোনা, ভূতবাগান ও আমবাগান এলাকায় পরিস্থিতি ছিল দুর্বিষহ। কোথাও কোথাও ডিঙি নৌকা ব্যবহার করতে হয় বাসিন্দাদের। রামরাজাতলা স্টেশন রোডেও প্রায় হাঁটুসমান জল জমে। উত্তর হাওড়ার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও একই ছবি। নস্করপাড়া রোড, হনুমান কুলি লাইন, নবীন ঘোষ লেন, শশিভূষণ মুখার্জি লেন, লালবিহারী বোস লেন, মহিনাথ পোড়েল লেন ও কামিনী স্কুল লেনের বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে। অরবিন্দ রোড, বেনারস রোড, সালকিয়া ও বেলুড় হপ্তা বাজার এলাকাতেও জমা জলে ভোগান্তি হয়। এদিকে হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে রেললাইনেও দুপুরে জল জমে। তবে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেনি। পাম্প চালিয়ে দ্রুত জল বের করার কাজ চলছে। হুগলিতে বৃষ্টি হয়েছে যথেষ্ট। রাতে কিছু জায়গা জলমগ্ন হলেও সকালে তা নেমে যাওয়ায় সমস্যা হয়নি। বুধবার ইতস্তত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু জনজীবনে তেমন প্রভাব পড়েনি। চাষাবাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা নেই বলে কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে হাওড়ার জেলার উদয়নারায়ণপুর ও আমতায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সর্তক করার কাজ শুরু হয়েছে। ডিভিসির ছাড়া জল দামোদর মুণ্ডেশ্বরী নদী হয়ে উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ২ নং ব্লকে আসছে। ফলে দুটি নদীতেই জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল। ডিহিভুরসুটে বালির বস্তা মজুত করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাঁধ রক্ষার সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে। আমতা ২ ব্লকের দীপাঞ্চল ভাটোরা এলাকায় নজর রাখছে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র