Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বরানগরে দুর্ঘটনার পরও হুঁশ ফেরেনি শহরতলির, ছড়িয়ে বালি, রাস্তা দখল করে অবাধে ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসা

ব্যস্ত রাস্তার ধারে ইট-বালি-পাথর ডাঁই করে রাখায় দুর্ঘটনা! সেই দুর্ঘটনায় শনিবার প্রাণ চলে গিয়েছে একরত্তি দুই ভাই-বোনের।

বরানগরে দুর্ঘটনার পরও হুঁশ ফেরেনি শহরতলির, ছড়িয়ে বালি, রাস্তা দখল করে অবাধে ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসা
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ব্যস্ত রাস্তার ধারে ইট-বালি-পাথর ডাঁই করে রাখায় দুর্ঘটনা! সেই দুর্ঘটনায় শনিবার প্রাণ চলে গিয়েছে একরত্তি দুই ভাই-বোনের। ঘটনার অভিঘাতে শোকে মূহ্যমান বরানগর। কিন্তু হুঁশ ফিরছে কই! বরানগরের বিভিন্ন এলাকা তো বটেই, পানিহাটি, কামারহাটি, দক্ষিণ দমদম, দমদমসহ উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে এখনও বহাল তবিয়তে চলছে ফুটপাত, রাস্তার একাংশ দখল করে ইমারতি সামগ্রীর ব্যবসা। জাতীয় সড়ক হোক বা রাজ্য সড়ক, রাস্তার ধারে ‘অস্থায়ী গোডাউন’ আকছার চোখে পড়ছে। তাহলে কি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অপরিণামদর্শী কাজকর্ম আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় এভাবেই বেঘোরে প্রাণ যাবে? প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। শনিবার বরানগরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও দক্ষিণেশ্বরে জাতীয় সড়কের ধারে বালির কারবার চলছে রমরমিয়ে।

Advertisement

দক্ষিণেশ্বরকে কলকাতার অন্যতম ‘গেটওয়ে’ বলা যায়। সেখান থেকে ডানলপের দিকে কিছুটা এলেই জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভার। তার নীচে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে কয়েকশো লরি বালি ও পাথর। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকছে লরি। লরির বালি ছড়িয়ে রয়েছে রাস্তার দু’দিকে। মহামিলন মঠের উলটো দিকেও জাতীয় সড়কের ধারে বালি ফেলে ব্যবসা চলছে। রবিবার দেখা গেল, সেখান থেকে রিকশয় করে বালি যাচ্ছে নির্মাণস্থলে। প্রকাশ্যে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দিনের পর দিন এই ব্যবসা চললেও হুঁশ নেই কারও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার উপর ছড়িয়ে থাকা বালির জন্য মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমনকি, বহু সময় রাস্তায় লরি দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট বাড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। শহরতলির অন্যতম লাইফ লাইন বি টি রোড ও যশোর রোড। বি টি রোডেরই অনন্যা মোড়ে শনিবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখনও চিকিৎসাধীন ওই দুই খুদের বাবা। সিঁথির মোড় থেকে বারাকপুর পর্যন্ত বি টি রোডের ফুটপাত আগেই ‘দখল’ হয়েছে। সার্ভিস রোডের উপর ইমারতি সামগ্রী রাখা নানা জায়গায়। গাড়ির গ্যারাজ, পার্কিং, পুরানো ফার্নিচারের পসরা বা বড়ো রেষ্টুরেন্টের দখলে গিয়েছে বিভিন্ন অংশ। একইভাবে দমদম রোড ও যশোর রোডে ইমারতি সামগ্রী ফেলে রাখার পাশাপাশি পার্কিং সমস্যা ভয়ানক আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ। যশোর রোডের বেশিরভাগ অংশই রাত বাড়লে বাস ও ছোটো গাড়ির পার্কিংয়ে রূপ নেয়। দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর, কামারহাটি, পানিহাটি, খড়দহ পুরসভা এলাকার প্রতিটি বড়ো রাস্তা ও অলিগলিতে ইমারতি সামগ্রী ফেলে রেখে চলছে ব্যবসা। বরানগর পুরসভার সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘দক্ষিণেশ্বরে জাতীয় সড়কের নীচে বালির কারবার আগেও ছিল। এখনও চলছে। শুধু ওই রাস্তা নয়, সর্বত্র ফুটপাত ও সার্ভিস রোড বেদখল হয়েছে। আমাদের জমানার ব্যর্থতা। নতুন সরকারের আমলেও একইরকম চলছে।’ বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং বলেন, ‘রাস্তা দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে। ট্রাফিক বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ