


সংবাদদাতা, রানাঘাট: ভোটার তালিকায় নাম বাদ। নতুন করে নাম তুলতে ফের চরম হয়রানি। শান্তিপুর বিডিও অফিসে গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ফরম-৬ জমা নেওয়ার কাজ। দিন যত এগচ্ছে উপচে পড়ছে ভিড়। কিন্তু, ফরম-৬ জমা দিয়েও দুশ্চিন্তা কাটছে না। কারণ, ফরম জমা দিয়েও প্রশাসনের তরফে মিলছে না কোনও প্রাপ্তি স্বীকারের কাগজপত্র।
ফরম-৬ জমা দিতে আসা বহু ভোটারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ গিয়েছে। আবারও সব নথি জমা দিচ্ছি। কিন্তু, এর পরও কি তালিকায় নাম উঠবে? প্রশ্ন একাংশের। তাঁরা জানিয়েছেন, নথি জমা দেওয়ার পরও কোনও রিসিভ কপি তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। পরে তাঁরা চ্যালেঞ্জই করতে পারবেন না। অথচ, মূল্যবান সময় ব্যয় করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে পড়ে থাকতে হচ্ছে বিডিও অফিসে। তবে, কেউ কেউ নাকি রিসিভ কপি পাচ্ছেন বলেও জানা গিয়েছে। তাতে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
ফরম-৬ জমা দিতে আসা শীখা সরকার বলেন, ‘আমি দু’দিন ঘুরে আজ ফরম জমা করলাম। কোনও রিসিভ আমাকে দেওয়া হয়নি। এর আগেও হিয়ারিংয়ে উপস্থিত হয়ে সব নথি জমা করেছিলাম। তারপরও নাম বাদ গিয়েছে। এবারও যে নাম তালিকায় উঠবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে কি করব, কোথায় যাব, ভেবে পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে প্রশাসন মুখ খুলতে চায়নি। তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপির পক্ষে বলা হচ্ছে, কমিশনের সাধু উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের জন্য। যাঁরা নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করছেন না। বিষয়টি তারা দলগতভাবে কমিশনে জানাবেন।
বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় তৃণমূলের বিধায়ক। তিনি বলেছেন, শুধু রিসিভই নয়। স্বল্প সময়ে এই প্রক্রিয়া মানুষের বিপক্ষে গিয়েছে। তাদের অন্ধকারে রেখে কমিশন কখন যে কি করছেন, তা জানা যাচ্ছে না। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাবে তৃণমূল। তবে মানুষের ভোটাধিকার বাঁচাতে কমিশন আদৌ ভাবিত কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। -নিজস্ব চিত্র