সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অবশেষে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে শিলিগুড়িবাসীর। শহরের সুভাষপল্লি-বাগরাকোট প্রহরীবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ের উপর রেল ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। এই খবরে শহরজুড়ে খুশির হাওয়া বইলেও, উচ্ছেদের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন রেলের জমিতে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার ও অনেক ব্যবসায়ী।
একসময় এই লেভেল ক্রসিং শহরের দুই প্রান্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। প্রহরীবিহীন এই ক্রসিং চালু হওয়ার পর যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছিল। কিন্তু ব্রডগেজ লাইনের সম্প্রসারণ এবং রেললাইন উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে এই পথ দিয়ে যানবাহন চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে শিলিগুড়ি শহরের কেন্দ্রস্থলে যানজটের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
শহরের ইন্ডোর স্টেডিয়াম, দেশবন্ধুপাড়া এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই পথটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এখানে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা আশ্বাস দিলেও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।
অবশেষে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের উদ্যোগে ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। তবে উন্নয়নের এই খবরে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারণ, ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য এখানে রেলের জমিতে থাকা বহু দোকান ও বাড়ি উচ্ছেদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উচ্ছেদ হলে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে কি না। অনেকেই জানেন না ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে বসবাস বা ব্যবসা করবেন। ফলে এলাকাজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রেল দীর্ঘদিন ধরেই দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারের অভিযান চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় জমি খালি করার নোটিসও জারি করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ওভারব্রিজ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে রেলের জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরাতে রেল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অসুবিধা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে পুনর্বাসনের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
অতীতে রেলের জমি উদ্ধার অভিযানের সময় পুনর্বাসনের দাবি উঠলেও রেলের তরফে জানানো হয়েছিল পুনর্বাসনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের। রেল নিজে পুনর্বাসন দেয় না। ফলে বর্তমানে সম্ভাব্য উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা।
এ প্রসঙ্গে শনিবার শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, এই উড়ালপুল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প। কাজটি অবশ্যই করতে হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কারও ক্ষতি বা উচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি হলে, সেই বিষয়টিও রেলমন্ত্রক সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমি আশা করি। • নিজস্ব চিত্র।