নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: প্রতি বছর পিতৃপক্ষের অবসানের দিন ভয় ধরিয়ে দেয় শব্দ দানব। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে পুরুলিয়ায় অসুর হয়ে দাঁড়ায় শব্দবাজি। পুলিশ প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এবছর মহালয়ার পরের দিন রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগে শব্দদূষণ রোধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক উৎপল ঘোষ। পুরুলিয়া মহকুমার অন্তর্গত সমস্ত থানার ভারপ্রাপ্ত এবং পদস্থ আধিকারিককে মহকুমা শাসকের নির্দেশ, আগামী ২২ তারিখ উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা রয়েছে। ওইদিন পর্যন্ত কোনও রকমের শব্দের তাণ্ডব মানা যাবে না। তাছাড়া সামনেই দুর্গা ও কালীপুজো রয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতেও শব্দের তাণ্ডব যাতে মাত্রা না ছাড়ায়, তা দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মহকুমা শাসক।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিশেষত পুরুলিয়া শহরে মহালয়ার আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই বাজি ফাটতে থাকে। মধ্যরাত হতেই তা মাত্রা ছাড়ায়। ভোরে আর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনই অভিজ্ঞতা শহরবাসীর। শহরের প্রবীণ নাগরিক গোপাল মাহাত বলেন, মহালয়ার ভোরে বাজির আওয়াজে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারা যায় না। শহরের বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা, প্রতিবছর শব্দবাজির তান্ডবে পোষ্য, পথ কুকুর থেকে শুরু করে পাখিরাও অস্থির হয়ে পড়ে। হাসপাতালের রোগীদের অবস্থাও করুণ হয়।
বাসিন্দাদের একাংশের ক্ষোভ, এই আওয়াজ কি কানে পৌঁছয় না পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকদের? এরকম বিকট শব্দের শব্দবাজি যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে শহরে এইসব বাজি পাওয়া যায় কী করে? তাঁদের অভিযোগ, পুলিস প্রশাসনের মদত না থাকলে একাজ কখনওই সম্ভব নয়। যদিও পুলিসের এক আধিকারিকের দাবি, শব্দবাজি রোধে পুলিস সবরকম পদক্ষেপ করে। আগের তুলনায় বাজির তাণ্ডব অনেক কমানো গিয়েছে। আগামীতেও বাজির তাণ্ডব রোধে সবরকম পদক্ষেপ করবে পুলিশ।
পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে কোন রকমের শব্দবাজির তাণ্ডব মানা হবে না। বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। শব্দবাজির বিপক্ষে অভিভাবকরাও। এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, প্রতি বছর মহালয়ার মতো একটা পুণ্যলগ্ন আমাদের কাছে আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমা চট্টোপাধ্যায় নামের এক বাসিন্দা বলেন, শব্দ বাজির তাণ্ডবে রাস্তার কুকুরগুলি ছটফট করে। যাঁরা শব্দবাজি ফাটানোকে উত্সব বলে মনে করে, তারা একবারের জন্যও এদের কথা ভাবে না। প্রশাসনও কানে তুলো গুঁজে থাকে।
প্রসঙ্গত, গত বছর একের পর এক বাজি বিস্ফোরণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। বেআইনি বাজি কারখানা বন্ধের ব্যাপারে সক্রিয় হয় রাজ্য সরকার। তবুও পুরুলিয়ায় রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি। পুলিস প্রশাসন সবই জানে। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেয় না বলেই অভিযোগ।