Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চুটিয়ে প্রেম করতে গিয়ে পড়াশোনা লাটে, বকা দেওয়ায় তিন বান্ধবী চম্পট, ভূপতিনগর থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

ভূপতিনগরে তিন বান্ধবী প্রেমে পড়াশোনায় অমনযোগী হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। ২৬ জুন পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বিস্তারিত পড়ুন।

চুটিয়ে প্রেম করতে গিয়ে পড়াশোনা লাটে, বকা দেওয়ায় তিন বান্ধবী চম্পট, ভূপতিনগর থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তিন বান্ধবী চুটিয়ে প্রেম করতে গিয়ে স্কুলের পড়াশোনায় অমনযোগী হয়ে পড়েছিল। স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ সেভাবে ছিল না। পড়াশোনা নিয়েও বিন্দুমাত্র উৎসাহ ছিল না। তা নিয়ে বাড়ির লোকজন বকাঝকা করায় গত ২২জুন একসঙ্গে তিনজন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। ভূপতিনগর থানার দক্ষিণ বড়বড়িয়া গ্রামের তিন নাবালিকা একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। থানায় মিসিং ডায়ের হতেই ভূপতিনগরের ওসি কাজল বর্মা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনজনের মোবা‌ইল বন্ধ থাকায় পুলিশকে বেগ পেতে হয়। একজন হাওড়া স্টেশনে ওয়াইফাই সংযোগ নিয়ে মেসেঞ্জার কল করেছিল। সেই সূত্র ধরেই তাদের খোঁজ পায় পুলিশ। ২৬জুন তিন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে তিনজনই পাঁউশির হোমে রয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, তিনজনের মধ্যে দু’জনের বয়স ১৭বছর। একজনের বয়স ১৫বছর। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। তিনজন একসঙ্গে স্কুলে যাতায়াত করে। তাদের মধ্যে বিরাট বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। একসঙ্গে তিনজনই প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। সেই সম্পর্কে জড়ানোর পর তিনজন ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল। 
এমনকি, স্কুলের পড়াশোনা ঠিকমতো রেডি না থাকায় স্কুলে যেতেও রাজি হত না। বরং স্কুলে যাওয়ার কথা বলে অন্য জায়গায় চলে যেত। বিষয়টি বাড়ির লোকজনের নজর এড়ায়নি। এরপরই তিনজনকে পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস হতে বাড়ির লোকজন বকাঝকা করেন। শুধু তাই নয়, নাবালিকা অবস্থায় সম্পর্কছিন্ন করার নির্দেশও দেয়। এই অবস্থায় তিন বান্ধবী মন খারাপ করে বাড়ি থেকে পালানোর ছক কষে। ২২জুন তিনজন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।
তিন নাবালিকার পরিবার এনিয়ে ভূপতিনগর থানার দ্বারস্থ হন। তারা মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা নি঩য়েছিল। সেজন্য প্রথমে তিনজন শিয়ালদহ স্টেশনে চলে গিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, শুধুমাত্র শিয়ালদহ স্টেশন থেকেই মুম্বইগামী ট্রেন ছাড়ে। তারপর সেখান থেকে হাওড়া স্টেশনে আসে। দু’দিন ওই স্টেশনে ঘুরপাক খাওয়ার পর তারা পাঁশকুড়ায় চলে আসে। গত ২৬জুন ভূপতিনগর থানার পুলিশের একটি টিম মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে দু’জনকে পাঁশকুড়া থেকে উদ্ধার করে। আরেকজন বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তাকে মাধাখালি থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্কুলছাত্রীরা তাদের মর্জিমতো জীবনকে বেছে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু, বাড়ির লোকজন আপত্তি করায় তারা অভিমান করে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও শেষমেশ পুলিশ তিনজনকেই উদ্ধার করেছে। সেইসঙ্গে বড়ো কোনো বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আগেই তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। ভূপতিনগর থানার ওসি বলেন, ওরা ২২জুন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমরা ২৬তারিখ উদ্ধার করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ