Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফিরেছে পড়ুয়ারা, স্কুল সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব নিলেন শিক্ষকরা, হাওড়ার ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষানিকেতন

কথায় বলে, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হতে বসা প্রাথমিক স্কুলে সেই ইচ্ছার জোরেই ফিরেছে শিশুদের কলরব।

ফিরেছে পড়ুয়ারা, স্কুল সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব নিলেন শিক্ষকরা, হাওড়ার ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষানিকেতন
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কথায় বলে, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হতে বসা প্রাথমিক স্কুলে সেই ইচ্ছার জোরেই ফিরেছে শিশুদের কলরব। সেই সাফল্যের পর এবার স্কুল ভবনকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরাই নেমে পড়েছেন রং-তুলি হাতে। স্কুলের তহবিলে টাকা নেই। তাই নিজেদের পয়সাতেই রং-তুলি ও দেওয়াল পরিষ্কারের সরঞ্জাম কিনে স্কুল ভবন রাঙানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁরা। হাওড়ার কদমতলার ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষানিকেতনে এখন তাই পড়াশোনার পাশাপাশি চলছে স্কুল সাজানোর কর্মযজ্ঞ।

Advertisement

প্রায় এক বছর আগেও ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উলটো। পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল সরকারি এই প্রাথমিক স্কুলটির। সেই সময় প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন অর্পিতা ঘোষ। সঙ্গে পান নন্দিতা দাশগুপ্ত, পায়েল চক্রবর্তী ও কৌশিক চক্রবর্তীর মত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। শুরু হয় নতুন লড়াই। আশপাশের বস্তি এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করার চেষ্টা শুরু করেন তাঁরা। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগে সাড়া মেলে। ১০ থেকে প্রথমে ৪৫, তারপর ধীরে ধীরে তা বেড়ে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫। পড়ুয়া টানতে শুধু বইয়ের পড়াকে গুরুত্ব দেননি শিক্ষকরা। নাচ, গান, আবৃত্তি, ক্যারাটে, অরিগ্যামির মতো সৃজনশীল বিষয়ও যুক্ত হয়েছে শিক্ষার সঙ্গে। পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়েই সাজিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ। সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর ছড়া ও চরিত্র ফুটে উঠেছে স্কুলের দেওয়ালে। তৈরি হয়েছে নিজস্ব কিচেন গার্ডেন।
পাশাপাশি, শহরের একমাত্র এই স্কুলেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৮ শিশুর জন্য শুরু হয়েছে বিশেষ ক্লাস। তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে স্পেশাল এডুকেটরের। বর্ষায় স্কুলের সামনে জল জমে গেলে পড়ুয়াদের যাতায়াতের সমস্যা হয়। সেই সমস্যা মেটাতে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাই। পাশের কারখানা থেকে রাবিশ এনে তাঁরা নিজেরাই রাস্তা মেরামত করেছেন। এবার সেই উদ্যোগেরই পরের ধাপ শুরু হয়েছে, স্কুল ভবন রাঙানো। নিজেদের টাকায় সরঞ্জাম কিনে দেওয়াল পরিষ্কার থেকে রং করা— সব কাজেই হাত লাগিয়েছেন তাঁরা।
প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘এক সময় যে স্কুলটি বন্ধ হতে বসেছিল, আজ সেখানে শিশুদের কলরব। আগামী বছর পড়ুয়াদের সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে স্কুলের আরও সংস্কার প্রয়োজন। নতুন সরকারের কাছে সেই উদ্যোগের আবেদন জানিয়েছি।’ পড়ুয়ার অভাবে যখন সরকারি স্কুলগুলি অস্তিত্বের সংকটে, তখন ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষানিকেতনের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগ দেখে স্থানীয়রা বলছেন, স্কুল বাঁচানোর লড়াই শুধু পড়ুয়া ফেরানোয় শেষ হয় না, তাকে নিজের হাতে সুন্দর করে তোলার দায়িত্বও নিতে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ