Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’হাজার কলম, ৬০ রকমের দোয়াত দেখে হাঁ স্মার্টফোনে অভ্যস্ত পড়ুয়ারা

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আঙুল ছুঁইয়ে লিখতে অভ্যস্ত বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের চক্ষু চড়কগাছ কলমের সম্ভার দেখে।

দু’হাজার কলম, ৬০ রকমের দোয়াত দেখে হাঁ স্মার্টফোনে অভ্যস্ত পড়ুয়ারা
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আঙুল ছুঁইয়ে লিখতে অভ্যস্ত বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের চক্ষু চড়কগাছ কলমের সম্ভার দেখে। শনিবার সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে পড়ুয়াদের মধ্যাহ্নভোজের বিশেষ ব্যবস্থার পাশাপাশি মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করেছিল কলমের প্রদর্শনীর। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রখ্যাত কলম সংগ্রাহক গ্রন্থাগারিক সুবীরকুমার সাহাকে। তাঁর কলমের বিপুল সংগ্রহ দেখে চোখ কপালে ওঠে পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের। শুধু কলমই নয়, দোয়াত এবং কালির পাশাপাশি অনেক ছাত্র এবং অভিভাবককে দেখা গিয়েছে সুবীরবাবুর লেখা কলমের উপর গবেষণা ধর্মী এবং তথ্য সম্বলিত বই সংগ্রহ করতেও।

Advertisement

এদিনের প্রদর্শনীতে ছিল দু’হাজার রকমের কলম। তার সঙ্গে ৬০ রকমের দোয়াত এবং ১৫ ধরণের কালিও। ভারতীয় কলমের পাশাপাশি আমেরিকা, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চিন সহ বিভিন্ন দেশের রকমারি কলম ও কালি দেখে নিজেদের মুগ্ধতা চেপে রাখতে পারেনি আজকের প্রজন্মের ছাত্ররা।

প্রদর্শনীতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জার্মানিতে তৈরি মগলার পেন। সোনার নিব এবং হাতির দাঁতের কারুকার্য করা এই পেন কার্যত অমূল্য বলে জানান সুবীরবাবু। এই কলম একবার হাতে নিয়ে দেখতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পড়ুয়াদের মধ্যে।

এছাড়াও আমেরিকাতে তৈরি পার্কার সনেট, ক্রস, অস্ট্রেলিয়ার শেফার্ড, জাপানের সেইলর, জার্মানির লেমি নজর কেড়েছে দর্শকদের। প্রদর্শনীতে ছিল ব্রোঞ্জ শলাকা পেন।সোনা, রুপো, তামা, কাঠ, বাঁশের নিবের কলমও। পরিবেশ বান্ধব কাগজের কলম দেখেও অপার বিস্ময় প্রকাশ করেছে পড়ুয়ারা। দু’টি নিবওয়ালা কলম, ক্যালিগ্রাফি পেন, খোদাই করার জন্য ব্যবহৃত পেন, খাগের কলম, কালিতে ডুবিয়ে লেখার কলমও এদিন দৃষ্টি আকর্ষণ করে সকলেরই।

পিতলের দোয়াত, বিভিন্ন কাঁচের, প্লাস্টিকের দোয়াত ছিল প্রদর্শনীতে। ছিল ওয়াটারম্যান, পেলিকান, শেফার্ড, হিরো, পাইলট এবং সুলেখা কোম্পানির রকমারি কালি।

সুবীরবাবু বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিলেতিলে তিনি সংগ্রহ করেছেন সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কলম, কালি ও দোয়াত। কাজটা খুব সহজ ছিল না।

রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক স্বামী তাপহরানন্দজী মহারাজ বলেন, আজকের প্রজন্ম জানুক কত সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে মানুষ লিখে চলেছে, নথিবদ্ধ করেছে নিজেদের রচনা। তাই আমরা সুবীরবাবুর এই সংগ্রহ ছাত্রদের দেখার ব্যবস্থা করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ