প্রেমের প্রস্তাবে ‘রাজি’ না হওয়ায় গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন! স্বীকারোক্তি ধৃতের, দাবি করল পুলিশ
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল অভিযুক্ত। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি কিশোরী। শনিবার রাতে তাই মরিয়া চেষ্টা! হয় প্রেমে সম্মতি, নয়তো খুন! গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ধৃত প্রহ্লাদ দাসকে জেরা করে এমনই তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, রীতিমতো পরিকল্পনা করেই শনিবার রাতে বিচিত্রানুষ্ঠান চলাকালীন ফোন করে কিশোরীকে ডেকেছিল প্রহ্লাদ। তারপর নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটায় সে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বিচিত্রানুষ্ঠান দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১৭ বছরের এই কিশোরী। রবিবার সকালে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর অর্ধনগ্ন-থেঁতলানো দেহ উদ্ধার হয় এক প্রতিবেশীর শৌচাগারের সামনে থেকে। এক্ষেত্রে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তা স্বীকারও করেছে।

Advertisement

পুলিশের বক্তব্য, প্রথমে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে প্রহ্লাদ। বাধা দেওয়ায় দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। সেই সময়ে কিশোরী আচমকা মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। অচেতন অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, জ্ঞান ফেরার পর ফের তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেই জেনেছে পুলিশ। তখন নির্যাতিতা চিৎকার করে উঠলে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে প্রহ্লাদ। মৃত্যু নিশ্চিত করতে এভাবেই বার বার আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু মাথায় আঘাত নয়, মুখও থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধস্তাধস্তির সময়ে কিশোরীর প্রতিরোধের মুখে অভিযুক্ত প্রহ্লাদের শরীরে একাধিক আঁচড় লাগে। ঘটনার পর মৃতদেহ টানতে টানতে আনা হয় বলে অনুমান স্থানীয়দের। তাঁদের কথায়, নির্যাতিতার দু’টি জুতো আলাদা আলাদা জায়গা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের দাবি, কিশোরীর মোবাইল উদ্ধার হয়েছে খাল থেকে।
এদিকে রবিবার অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে রক্তমাখা প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। সেদিনই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরেন্সিক দল। সেখান থেকে রক্তের দাগ সহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সোমবার ধৃতের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পোশাকের রক্তের সঙ্গে সেই নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এনিয়ে বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কালিতা দাশগুপ্ত বলেন, ধৃতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রহ্লাদ একাই জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ধৃতকে আরও জেরা করা হবে। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন মা। তিনি বলেন, যে আমার মেয়েকে এভাবে খুন করল, তার ফাঁসি চাই।