Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্ঘটনায় ভাঙল পরীক্ষার্থীর পা, রেফার হলেন কলকাতায়

বালি আর পাথরই সত্য, বাকি সব মিথ্যা। মুরারইয়ে এখন এটাই বাস্তব। রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে বালি,

দুর্ঘটনায় ভাঙল পরীক্ষার্থীর পা, রেফার হলেন কলকাতায়
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বালি আর পাথরই সত্য, বাকি সব মিথ্যা। মুরারইয়ে এখন এটাই বাস্তব। রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে বালি, সেই বালিতে চাকা পিছলে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে ধাক্কা খেল একটি বাইক। যাতে সওয়ার ছিল এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, চালক ছিল তার বাবা। মেয়েটি যাচ্ছিল পরীক্ষা দিতে। দুর্ঘটনায় বাবা ও মেয়ে দুজনেরই পা ভাঙল। বরাত জোরে অবশ্য প্রাণ যায়নি। পরীক্ষা চলাকালীন সর্বত্র যানবাহনের গতিবিধির উপর কড়া পুলিসি নজরদারি চলে। মুরারইয়ে সেসবের বালাই নেই। যা নিয়ে পুলিসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়রা। অবরোধ তুলতে এলে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিসকে। পরে চালক সহ ট্রাক্টরটিকে আটক করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  এদিকে শুরুর একঘণ্টা পর থেকে মেয়েটি রামপুরহাট হাসপাতালে শুয়েই পরীক্ষা দেয়। তাঁর মানসিক জোরকে কুর্নিশ জানিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিলের জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ নন্দন। 

Advertisement

মুরারই অক্ষয়কুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্রী অঙ্কিতা রাজবংশী। বাড়ি মুরারইয়ের গোপালপুর গ্রামে। এদিন বাবা হৃদয় রাজবংশী মেয়েকে বাইকে চাপিয়ে ডুরিয়া হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হৃদয়বাবু বলেন, গোপালপুর-মুরারই রাস্তায় অনরবত ট্রাক্টর যাচ্ছিল। চার-পাঁচটা ট্রাক্টরকে ওভারটেক করেছি। দরগাতলার কাছে আর একটা ট্রাক্টরকে ওভারটেক করার সময়ে সামনের দিক থেকে একটি সাইকেল আসছিল। তাকে পাশ দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা বালিতে বাইকের চাকা পিছলে দুজনেই পড়ে যাই। পিছন থেকে আসছিল একটি পাথর বোঝাই ট্রাক্টর। সেটির চাকা আমাদের পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। আঘাত সব থেকে বেশি অঙ্কিতার। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মুরারই ব্লক হাসপাতাল ও পরে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসে। সেখানে আগে থেকেই কাউন্সিল নিযুক্ত অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ছাত্রী ও তাঁর বাবার ভর্তির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দুজনের আঘাতই গুরুতর হওয়ায় অঙ্কিতা ও তার বাবাকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের পায়ের শিরা কেটে যাওয়ায় রক্ত বন্ধ হতে চাইছে না। 
স্থানীয় মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, পরীক্ষা চলকালীন নো এন্ট্রি থাকা সত্ত্বেও কী করে ভারী যানবাহন চলতে দিল পুলিস? তাঁরা বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মুরারই ব্লক হাসপাতাল যাওয়া যায়। এই রাস্তায় ভারী যান চলাচল করতে দেব না। মানুষের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিসকে। তারা জানিয়েছে, নো এন্ট্রি ছিল, ভারী যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ ছিল। চলছিল নজরদারিও। কিন্তু গ্রামের রাস্তা দিয়ে এই ট্রাক্টরটি ঢুকে পড়ে।
এদিকে কাউন্সিলের জেলা অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্যরা অঙ্কিতাকে পরীক্ষায় বসার ব্যাপারে সাহস জোগান। অবশেষে এগারোটা নাগাদ ভাঙা পা নিয়েই ছাত্রীটি পরীক্ষায় বসে। এদিনই রামপুরহাট, নলহাটি, মল্লারপুর সহ বিভিন্ন সেন্টার ঘুরে দেখেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে থাকা অভিজিৎবাবু বলেন, ওই পরীক্ষার্থীর দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সংসদের সভাপতিকে জানানো হয়। তাঁর নির্দেশে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। যাতে সে বাকি পরীক্ষাগুলি হাসপাতালে দিতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে।  • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ