ঢাকা ও নয়াদিল্লি: সেনার হাত ধরে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন শেখ হাসিনা। গত কয়েকদিনে এই দাবি ঘিরে সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। রবিবার এই নিয়ে বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশ সেনা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আওয়ামি লিগকে পুনর্বাসন দেওয়া নিয়ে সেনাবাহিনী কোনও পরিকল্পনা করছে না। ছাত্র আন্দোলেনের নেতাদের তৈরি নতুন দল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)-র নেতারা আওয়ামি লিগ ও সেনাকে নিয়ে যে সব দাবি করতে শুরু করেছেন তা নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সেনা। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এনসিপি নেতারা হাস্যকর ও অপরিণত গল্প তৈরি করে চলেছেন। এসব রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।’
সম্প্রতি এনসিপির অন্যতম প্রধান নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, তিনি ও আরও কয়েকজন নেতাকে সম্প্রতি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ‘সংশোধিত’ রূপে আওয়ামি লিগকে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য তাঁদের উপর চাপ দেন সেনা আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, আওয়ামি লিগ ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন সম্ভব নয়। হাসনাতের ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যত ঝড় বয়ে যায়। অভিযোগ উঠতে শুরু করে, ভারতের মদতেই সেনা আওয়ামি লিগকে পুনর্বাসন দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাইছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ঢাকার সেনা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়।
এদিন সুইডেনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমকে সেনা জানিয়েছে, এনসিপির কোনও নেতাকে ডেকে পাঠানো হয়নি। হাসনাত ও এনসিপির আর এক নেতা সারজিস আলম দীর্ঘদিন ধরেই সৌজন্য সাক্ষাতের ইচ্ছাপ্রকাশ করছিলেন। ১১ মার্চ ফের তাঁরা সময় চাইলে, ক্যান্টনমেন্টে আসতে বলা হয়। কিন্তু হাসনাত ও সারজিস সেখানে না গিয়ে সেনাভবনে অপেক্ষা করেন। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে সেনাপ্রধান কথা বলেন। তবে আওয়ামি লিগ প্রসঙ্গে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেনি সেনা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব নেতারা ফৌজদারি মামলায় জড়িত নন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, তাঁদের নিয়ে আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশ নিলে তা আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবে এই নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি সব রাজনৈতিক দলের উপর ছেড়ে দেন সেনাপ্রধান।
এর মধ্যেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে ক্ষমতা হারাতে হবে, তা আগেই জানত দিল্লি। বাংলাদেশে যে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন জোরালো হচ্ছে, সেই খবরও ভারতের কাছে ছিল। বিদেশমন্ত্রকের পরামর্শদাতা কমিটির কাছে এই দাবি করেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, আগে থেকে জানলেও এ বিষয়ে ভারতের কিছু করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। হাসিনাকে কেবল পরামর্রশ দেওয়ার সুযোগ ছিল।