Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাপে কাটা ছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আরামবাগে

সাপে কাটা ছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আরামবাগে
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মেডিকেলে সর্পঘাতে জখম স্কুল ছাত্রীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে চিকিৎসায় গাফিলতি ও হাসপাতালের অব্যবস্থার অভিযোগে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মেডিকেল চত্বর। মৃতার নাম তমসী পাল (১৬)। বাড়ি আরামবাগ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাদলকোনায়। তমসী আরামবাগে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাড়ির সামনেই তার বাম পায়ে সাপে কামড়ায়। তার দিদি দ্রুত তাকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি ও দেরি করা হয়। তাতেই মৃত্যু হয়। যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। এদিনই ভিডিওগ্রাফি ও বিশেষজ্ঞ দিয়ে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করানো হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতার বাবা অচিন্ত্য পাল বলেন, মেয়েকে ভর্তি করার পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসায় গরিমসি করেন সেখানকার তিন চিকিৎসক। মেয়ের শরীরে বিষক্রিয়া নেই বলে জানিয়ে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। টোটো ভাড়া করে সেখানে নিয়ে যাই। আইসিইউ-তে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচার পেতেও হিমশিম খেতে হয়। আমি ও বড় মেয়ে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দ্রুত চিকিৎসা করা হয়নি। এদিন সকালে অভিযোগ জানানোর জন্য ওয়ার্ড মাস্টারের অফিসে গেলে, সেখান থেকে জানানো হয়, দু’ দিন ছুটি আছে। মঙ্গলবার আসুন। চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে হাসপাতাল চলছে। ক্ষোভে চিকিৎসককে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অনেকে। যাতে তাঁকে কেউ হেনস্তা না করে তারজন্য আটকাই। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শাস্তি হোক। 

Advertisement

মৃতার দিদি তিয়াশা পাল বলেন, বোনের যে স্থানে ক্ষত হয়েছিল সামান্য ড্রেসিং পর্যন্ত করা হয়নি। চিকিৎসায় চূড়ান্ত গাফিলতি করা হয়। এমনকি, তাঁদের কেউ কেউ আবার বাংলা ভাষা বোঝেন না। আমরা সমস্ত ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 
মেডিকেলের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, সাপে কামড়ানো রোগীকে যেভাবে চিকিৎসা করা হয় ওই কিশোরীকেও একইভাবে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। কী অবস্থায় রোগিনী এসেছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত তিনজনের কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আপাতত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গুরুত্ব সহকারে ময়নাতদন্তও করানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
এদিন রোগীর আত্মীয় মৌসুমী পাল, সমরজিৎ পালরা বলেন, হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত রোগী ও তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।  স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তমসীর বাবা অচিন্ত্যবাবু কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান। মা মিঠুদেবী গৃহবধূ। দিদি নার্সিং পড়ুয়া। ওই রাতে তার মৃত্যু হলে  সকালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। বিক্ষোভের সময় মেডিকেলের এক সিনিয়র রেসিডেন্ট যাচ্ছিলেন। তাঁকে ঘিরে মৃতার পরিজনরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। চিকিৎসককে পরিবারের সদস্যদের কাছে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উত্তেজনা ছড়ালে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ওই চিকিৎসক অবশ্য বলেন, ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু রোগী তাতে সাড়া দেয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ