নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রবল আর্থিক অনটন, স্ত্রীর শারীরিক সমস্যা, মাস গেলে কয়েক হাজার টাকা মাত্র বেতন। এসব সত্ত্বেও বেসরকারি সংস্থার এক নিরাপত্তারক্ষী কয়েক লক্ষ টাকা দামের পান্না বসানো একটি সোনার আংটি অবলীলায় ফিরিয়ে দিলেন মালিকের হাতে। প্রাপক পিনাকী চৌধুরী ধন্যবাদ জানালে, রক্ষী বিকাশ রায় মৃদু হেসে শুধু বলেছিলেন, ‘ভার কমল। এটাই তো আমার কাজ। আমি নিরাপত্তারক্ষী তো।’ দক্ষিণ দমদমের এক বেসরকারি এটিএমের এক নিরাপত্তাকর্মীর এ হেন সততার গল্প নাগরিক মহলের চর্চাতে উঠে এসেছে। পিনাকীবাবু কৃতজ্ঞ। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়েই দায়িত্ব সারেননি। বিকাশ রায়ের মতো মানুষ প্রকৃতপক্ষে একটি দৃষ্টান্ত। এই কথাটি সোচ্চারে প্রচার করছেন। সামাজিক মাধ্যমে স্তুতি করে পোস্ট করেছেন। পিনাকী লিখেছেন, ‘সৎ-মানুষ এবং সততা বেঁচে আছে বলেই আজও পৃথিবী ঘুরছে।’
Advertisement
দক্ষিণ দমদমের সুভাষ নগরের বাসিন্দা পিনাকী চৌধুরী হাইকোর্টের আইনজীবী। সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের প্রাক্তনী এক বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দেখা করবেন ভাবছিলেন। তবে তা কিছুতেই হচ্ছিল না। শনিবার দেখা করার জেদ নিয়ে সকালে বাড়ি থেকে বেরন। দমদম রোডের ইন্দিরা ময়দান লাগোয়া বেসরকারি একটি ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তোলেন। তারপর ক্যালকাটা সুইমিং ক্লাব লাগোয়া এলাকায় পৌঁছন। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন বন্ধু। শীতের সকালে দুই বন্ধু কফি খেতে খেতে আড্ডায় ডুবে যান। আচমকা পিনাকীবাবু খেয়াল করেন হাতে পান্না বসানো দামি সোনার আংটিটি আঙুলে নেই। চূড়ান্ত হতাশ হন। বন্ধুর সঙ্গে আশপাশ এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজেও আংটি পাননি। একসময় ক্লান্ত হয়ে পাওয়ার আশা কার্যত ছেড়ে মন খারাপ করে ধরেন বাড়ির পথ। ফেরার পথে কি মনে হতে একবার ঢোকেন ওই এটিএমে। নিরাপত্তারক্ষী বিকাশবাবুকে আংটির কথা জিজ্ঞেস করেন। কোনও উত্তর দেননি বিকাশবাবু। পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করেন। সেটি খুলে আংটিটি পিনাকীবাবুর হাতে তুলে দেন। তারপর সামান্য ওইটুকু কথোপকথন দু’জনের মধ্যে।
বিকাশ রায়ের বাড়ি দক্ষিণ দমদমের ১৫নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর স্ত্রী পায়ের সমস্যায় শয্যাশায়ী। তাঁকে খাইয়ে দাইয়ে বাড়ির কাজ সেরে এটিএমে দিন-রাতের শিফটে ডিউটি করেন। তাঁর ৫৮ বছর বয়স। নিজেও পায়ের ব্যথায় কাবু। হাঁটতে চলতে সমস্যা। মাসে হাজার দশেক টাকা বেতন পান। তা দিয়েই কোনওরকমে চলে সংসার। কাজ চলে গেলে কিভাবে সংসার চলবে জানেন না। বহুমূল্য আংটিটি ফিরে পেয়ে পিনাকিবাবু বলেছেন, ‘বিকাশবাবুর মতো মানুষ সমাজের সম্পদ। মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৫০০টাকাও নিতে চাননি। অনেক জোরাজুরি করে তবে দিতে পেরেছি।’ আর বিকাশবাবু বলেন, ‘ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা, যত কষ্টই হোক কাজ করে যাওয়ার সামর্থ্য দিও। নিজের পরিশ্রমের টাকায় খাবার জুটে যায়। আংটি গচ্ছিত রাখা বা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া বা থানায় জমা দেওয়াই আমার কর্তব্য।’
বিকাশ রায়ের বাড়ি দক্ষিণ দমদমের ১৫নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর স্ত্রী পায়ের সমস্যায় শয্যাশায়ী। তাঁকে খাইয়ে দাইয়ে বাড়ির কাজ সেরে এটিএমে দিন-রাতের শিফটে ডিউটি করেন। তাঁর ৫৮ বছর বয়স। নিজেও পায়ের ব্যথায় কাবু। হাঁটতে চলতে সমস্যা। মাসে হাজার দশেক টাকা বেতন পান। তা দিয়েই কোনওরকমে চলে সংসার। কাজ চলে গেলে কিভাবে সংসার চলবে জানেন না। বহুমূল্য আংটিটি ফিরে পেয়ে পিনাকিবাবু বলেছেন, ‘বিকাশবাবুর মতো মানুষ সমাজের সম্পদ। মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৫০০টাকাও নিতে চাননি। অনেক জোরাজুরি করে তবে দিতে পেরেছি।’ আর বিকাশবাবু বলেন, ‘ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা, যত কষ্টই হোক কাজ করে যাওয়ার সামর্থ্য দিও। নিজের পরিশ্রমের টাকায় খাবার জুটে যায়। আংটি গচ্ছিত রাখা বা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া বা থানায় জমা দেওয়াই আমার কর্তব্য।’



