Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সূতিতে প্রাক্তন শিক্ষিকার ছেলেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি, ৪৪ লক্ষ হাতিয়ে শিক্ষক গ্রেপ্তার

সূতিতে প্রাক্তন শিক্ষিকার ছেলেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি, ৪৪ লক্ষ হাতিয়ে শিক্ষক গ্রেপ্তার
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: দুই ছেলেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। এমনকী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে ভারতরত্ন পুরস্কারও পাইয়ে দেওয়া হবে। এমনই আশ্বাস দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকার কাছ থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক মহম্মদ হাসানুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাঁর বাড়ি সূতি থানার আলিয়া ছাপঘাটি গ্রামে। তিনি স্থানীয় বাজিতপুর শেখপুরা প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা জাইনুর বিবি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শিক্ষিত মহলে শোরগোলের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ওই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। শিক্ষকের ১০ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে সূতি চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক অরিন্দম দত্ত বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জেনেছি। যদিও আমার কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। সূতি থানার এক পুলিস আধিকারিক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সূতির বড় কাঁকরামারি গ্রামের বাসিন্দা জাইনুর বিবি। তিনি সূতির ফতেপুর কামারপাড়া প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা পদ থেকে ১২ বছর আগে অবসর নেন। অবসর গ্রহণের পর দুই ছেলের চাকরির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। তখনই ওই শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি ছেলের চাকরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর দুই ছেলের চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪৪ লক্ষ টাকা দাবি করে। বিনিময়ে দুই ছেলের চাকরির পাশাপাশি শিক্ষিকাকে ভারতরত্ন পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতিও দেয়। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওই শিক্ষিকা ৪৪ লক্ষ টাকা দিয়েও দেন। কিন্তু চাকরির কোনও ব্যবস্থা করেনি অভিযুক্ত শিক্ষক। প্রথম দিকে কিছুদিনের মধ্যেই চাকরিতে নিয়োগ করা হবে বলে জানায় অভিযুক্ত শিক্ষক জানায়। কিন্তু, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দুই ছেলের চাকরি না হওয়ায় ওই শিক্ষিকা টাকা ফেরত চান। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক টাকা নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করে। তারপরই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান অবসরপ্রাপ্ত  শিক্ষিকা।
ওই শিক্ষিকা বলেন, ওই শিক্ষক বলেছিল দুই ছেলের চাকরি ও আমাকে পুরস্কার পাইয়ে দেবে। কিন্তু সে এখন চাকরি তো দূরের কথা টাকা নেওয়ার কথাই স্বীকার করছে না। তবে, টাকা দেওয়ার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। 
বিষয়টি জানাজানি হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরির নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। জঙ্গিপুর পুরসভা ফুলবাড়ির এক যুবকও প্রায় আট লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই যুবককেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ