সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: খুনের পর প্রমাণ লোপাট দেহ স্ত্রী’র দেহ সৎকার করতে শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিল এক যুবক। কিন্তু, শেষ রক্ষা আর হল না। চিতার ওঠানোর আগেই দেহ তুলে এনে ময়নাতদন্তে পাঠাল পুলিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখীর পানাশোল গ্রামে। মৃতের নাম রানু লোহার (২৫)। তাঁর স্বামীর নাম তাপস লোহার। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রানু বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। কবিরাজের দেওয়া মাদুলি মোটা সূতোর মালায় পরেছিলেন। ওই সূতো পেঁচিয়েই রানুকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাপসের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগে প্রমাণ লোপাট করতে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে গ্রামে চাউর করে দেয় তাপস। পরে দেহ সৎকার করতে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, রানুর গলায় দাগ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা পুলিসে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিস শ্মশানে চলে আসে। চিতায় তোলার ঠিক মূহূর্তে রানুর দেহ উদ্ধার করে পুলিস। আটক করা হয় তাপসকেও। পরে রানুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পুলিস জানিয়েছে, পানাশোলে স্ত্রী’কে খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়শা রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখীর কুণ্ডপুষ্করিনীর বাসিন্দা তাপস। পেশায় রাজমিস্ত্রি। কয়েকবছর ধরে শ্বশুরবাড়ির এলাকা পানাশোল গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে থাকত। পরিবারে তার শাশুড়ি এবং দু’টি শিশুসন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শাশুড়ি কালী লোহার জমিতে কাজে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে তাপস তার স্ত্রীর গলায় থাকা মালার সূতো পেচিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাপস কুণ্ডুপুষ্করিনী থেকে তার বাবাকে ডেকে পাঠায়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কালীদেবীও বাড়ি চলে আসেন। তাপস সকলকেই অসুস্থতার কারণে স্ত্রী মারা গিয়েছে বলে জানায়। বিকেলের দিকে দেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। চিতাও সাজানো হয়। তবে, মৃত রানুর গলায় দাগ দেখে স্থানীয় দু’একজনের সন্দেহ হয়। তাঁদের মাধ্যমেই খবর পৌঁছে যায় পুলিসের কাছে।
মৃতার এক আত্মীয় পানাশোল গ্রামেরই বাসিন্দা লক্ষণ লোহার বলেন, ‘আমি কাজে গিয়েছিলাম। পিসতুতো বোন রানুর বড়ো কোনও রোগ হয়েছে বলে জানা ছিল না। তবে, হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে হতবাক হই। বাড়ি এসে দেখি ততক্ষণে দেহ তড়িঘড়ি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিতায় ওঠানোর আগে গলায় দাগ দেখতে পাওয়া যায়। সেটা নিয়েই সকলেরই সন্দেহ হয়। সেই খবর পেয়ে পুলিস চলে আসে। দেহটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিস সঠিক তদন্ত করে তাপসের কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা করুক।’
মৃতার এক আত্মীয় পানাশোল গ্রামেরই বাসিন্দা লক্ষণ লোহার বলেন, ‘আমি কাজে গিয়েছিলাম। পিসতুতো বোন রানুর বড়ো কোনও রোগ হয়েছে বলে জানা ছিল না। তবে, হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে হতবাক হই। বাড়ি এসে দেখি ততক্ষণে দেহ তড়িঘড়ি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিতায় ওঠানোর আগে গলায় দাগ দেখতে পাওয়া যায়। সেটা নিয়েই সকলেরই সন্দেহ হয়। সেই খবর পেয়ে পুলিস চলে আসে। দেহটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিস সঠিক তদন্ত করে তাপসের কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা করুক।’



