সংবাদদাতা, বজবজ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় পুজালি পুরবোর্ডের মেয়াদ চারবছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার পুজালি পুরসভার নির্বাচন করেনি। তবু ওই পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাসই পুর বোর্ড চালাচ্ছিলেন প্রশাসক হিসাবে। নির্বাচিত বোর্ড না পেয়ে পুরবাসীরা ক্ষুব্ধ। পুর নির্বাচনের দাবিতে বিজেপি একাধিকবার প্রশাসনের কাছে দরবার করে। এমনকি, তৃণমূলেরও একটি গোষ্ঠী নিয়মিত পুরভোট গ্রহণের পক্ষে ছিল। তৃণমূল সূত্রের অভিযোগ, দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ক্ষমতাধর পর্যবেক্ষক জাহাঙ্গির খান তাতে বাগড়া দিচ্ছিলেন। তাই পুরভোট আয়োজনে তৎকালীন প্রশাসনও গা করেনি।
সম্প্রতি পালাবদল হতেই নতুন রাজ্য সরকার মেয়াদ উত্তীর্ণ সব পুরসভায় ভোটগ্রহণে তৎপর হয়েছে। ইতিমধ্যে হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোটগ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষ। স্বভাবতই খুশি পুরবাসীরা। একইসঙ্গে পুজালিতেও দ্রুত ভোটগ্রহণের দাবি উঠেছে। এই সুরেই সুর মিলিয়েছেন এই অঞ্চলের বিজেপি কার্যকর্তারাও।
ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার প্রশাসক হিসাবে পুজালি পুরসভার দায়িত্বভার নিয়েছেন আলিপুরের এসডিও রবিকুমার মিনা। এখন থেকে পুর পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় অভাব-অভিযোগ তিনিই শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে, বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা সবিতা রায়চৌধুরী বজবজের বাসিন্দা। তিনি বলেন, পুজালির নাগরিকদের গণস্বাক্ষর সংবলিত চিঠি নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করব। সঙ্গে থাকবেন দলের স্থানীয় মণ্ডল কমিটির কার্যকর্তারাও। আগামী শীতেই পুজালিতে ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হবে। কারণ পুর পরিষেবা পেতে খুবই সমস্যা হচ্ছে।
বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রের ইন-চার্জ হরিকৃষ্ণ দত্ত এবং বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাংগঠনিক সভাপতি সোমা ঘোষ বলেন, পুজালিতে পুরভোট চাই আমরাও। কোথাও কোনোরকম ফাঁকিবাজি এবং দুর্নীতির সঙ্গে সামান্য আপসও করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তা দেখিয়ে দিয়েছেন। পুজালি পুরসভার বিষয়ে তিনি নিশ্চয় যথোচিত পদক্ষেপ করবেন।