সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর আশ্রম এলাকায় টোটো ও চারচাকা গাড়ি পার্কিংয়ে এবার কড়াকড়ি শুরু করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকালে ফার্স্ট গেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় হয়ে সংগীত ভবন পর্যন্ত এলাকায় নো পার্কিং সাইনবোর্ড বসানো হয়। বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীরা মাইকিং করে গাড়ি দাঁড় না করানোর জন্য সতর্ক করেন। আশ্রম এলাকার আরও নানা জায়গায় নো পার্কিং পোস্টার সাঁটা হয়েছে।
এতদিন টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা, পর্যটকদের ঘোরানোর ফলে ওই এলাকায় যানজট দেখা দিচ্ছিল। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছিল। তাই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর আশ্রম এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, টোটো ও চারচাকা গাড়ি রতনপল্লির নিমতলা মাঠের কাছে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। অন্যত্র গাড়ি দাঁড় করালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পোস্ট অফিস মোড় থেকে সংগীত ভবন পর্যন্ত রাস্তায় পর্যটক নিয়ে টোটো চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আশ্রম এলাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কাছে টোটোর কারণে যানজট যাতে না দেখা দেয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বিনা কারণে রাস্তায় টোটো দাঁড় করিয়ে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, আশ্রম এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগেই ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এবার টোটো ও চারচাকা গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই শান্তিনিকেতনের লজ মোড় থেকে রতনকুঠি এবং পোস্ট অফিস মোড় থেকে সংগীত ভবন পর্যন্ত ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভারী পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আশ্রম এলাকার বাসিন্দাদের আশা, এই কড়াকড়ির জেরে যানজট ও দুর্ঘটনা কিছুটা কমবে। তবে বর্ষায় আশ্রম এলাকার বিভিন্ন রাস্তা খানাখন্দে ভরে যাওয়া নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাস্তা সংস্কারে তাড়াতাড়ি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।