Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মরা পদ্মার পারে বিএসএফের কড়াকড়িতে চাষাবাদে সমস্যা, রাজ্যে পালাবদলে পরিবর্তনের আশায় চাষিরা

মরা পদ্মার ওপারে বিএসএফের কড়াকড়িতে চাষের সমস্যা বাড়ছে। নতুন সরকারের আশায় চাষিরা। বিস্তারিত জানুন।

মরা পদ্মার পারে বিএসএফের কড়াকড়িতে চাষাবাদে সমস্যা, রাজ্যে পালাবদলে পরিবর্তনের আশায় চাষিরা
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: মরা পদ্মার ওপারে(পূর্ব পাড়) বিঘের পর বিঘে চাষের জমি রয়েছে। অথচ ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী চরের বাসিন্দারা ইচ্ছামতো চাষের অধিকার নেই। সীমান্তের প্রহরী বিএসএফের ইচ্ছার উপর তাঁদের জমিতে যাওয়া-আসা এবং চাষের সময় নির্ভর করে। চাষের কাজে পদ্মার ওপারে যেতে হলে কয়েক দফা ঝক্কি পোহাতে হয়। সকালে এসে স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পে আধার,ভোটার প্রভৃতি  জমা দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। কাগজপত্র পরীক্ষা সেরে ছাড়পত্র মিলতে ৯টা বেজে যায়। মাঝের ওই দুই-তিন ঘন্টা অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ছাড়পত্র মিলতেই ছোট পদ্মা পেরিয়ে চাষের জমিতে পৌঁছতে আরও কিছুটা সময় লাগে। সবমিলিয়ে জমিতে পৌঁছতেই ১০টা বেজে যায়। এদিকে দুপুর গড়াতেই বিএসএফ জওয়ানরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য তাড়া দিতে শুরু করে। কাজেই বেলা ১টা বাজতেই বাড়ির পথে রওনা দিতে হয়। ফলে আড়াই-তিন ঘন্টা কাজের জন্য লেবারদের সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দিতে হয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদলের পরদশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশায় বুক বেধেছেন চরের বাসিন্দারা। বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, আমি জানিনা ওখানে কি পরিস্থিতি রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই চর এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা জানার চেষ্টা করব। তারপর বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানাবো। 

Advertisement

ভগবানগোলা-১ ব্লকের হনুমন্তনগর পঞ্চায়েতের চরলবণগোলা, চরবাবুপুর, মাঠপাড়া প্রভৃতি গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে মরা বা ছোট পদ্মা। ছোট পদ্মার পূর্ব পাড়ে রয়েছে চর এলাকার বাসিন্দাদের কয়েকশো বিঘা চাষের জমি। জমি থাকলে কি হবে, নিজেদের জমিতে যেতেই চরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিএসএফের খামখেয়ালিপনায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ চাষবাস এখানকার গরিব মানুষগুলির একমাত্র জীবিকা। ছোট পদ্মার পশ্চিমপাড়ের চরবাবুপুরের প্রবীণ বাসিন্দা কিসমত শেখ বলেন, পূর্বপাড়ে বেশ কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু এখানে চাষের জমি থেকেও কোন লাভ নেই। চাষের জন্য একপ্রস্থ ঝক্কি সামলে ওপারে যেতে হয়। দুই-আড়াই থেকে বড় জোর তিন ঘন্টা চাষের সময় পাওয়া যায়। বেলা ১টা বাজতেই বিএসএফ এসে জমি থেকে একপ্রকার তাড়িয়ে দেয়। কাজ না হলেও লেবারদের তো কম মজুরি দেওয়া চলে না। তাদের মাথা পিছু পারিশ্রমিক চারশো টাকা গুনতে হয়। ফলে চরে চাষ করে লাভ নেই। এদিকে অন্য কিছু করার সংস্থান নেই। অগত্যা এভাবেই চাষ করতে হচ্ছে। 
অপর বাসিন্দা সাদেক আলি বলেন, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আড়াই-তিন ঘন্টা চাষের সময় পাওয়া যায়। এই সময়ের মধ্যেও লেবারদের দিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা ঘন্টাখানেক নিজেদের কাজ করিয়ে নেয়। অথচ কিছু বলার উপায় নেই। প্রতিবাদ করলেই জমিতে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলবে না। নতুন সরকার যদি আমাদের কথা বিবেচনা করে তাহলে চরের চাষি পরিবারগুলি উপকৃত হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ