ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ট্রেস কীভাবে কমাবেন, আলোচনা করছেন মনোবিদ ডাঃ রূপকল্যাণ।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ট্রেস কীভাবে কমাবেন, আলোচনা করছেন মনোবিদ ডাঃ রূপকল্যাণ।
প্রতিদিন অন্তত আধ থেকে এক ঘণ্টা সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে সময় দিন। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে পারেন। ধ্যান, প্রার্থনাতেও স্ট্রেস কমে। ধর্মস্থানে অনেকেই ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের বিষয়ে নানারকম কথা বলেন, প্রার্থনা করেন। এও কিন্তু স্ট্রেস ঝেড়ে ফেলার অন্যতম পন্থা।
চাকরি, সহকর্মী বা বসকে নিয়ে সমস্যা হলে ভাবুন, চাকরিটাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। অফিসে একটা দিন খারাপ যাওয়া মানেই সব কিছু শেষ নয়। বরং কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হলে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিকল্প বেছে রাখুন। তাতে স্ট্রেস কমবে।
মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানো নিয়ে চিন্তা সব সময় থাকে। খরচ কমানোর পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎসও খুঁজে রাখুন। এতে মনের উপর চাপ কমবে।
পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার চাপ থাকে। সেক্ষেত্রে পড়ার গোটা বিষয়টিকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন। তারপর ধাপে ধাপে সেগুলোর সমাধান করুন।
সারাদিনের কাজের শেষে পাড়ার দোকানে গিয়ে আড্ডা দিন। যে কোনও বিষয়ে মন খুলে কথা বলুন। আপনার মনে চেপে থাকা রাগ-দুঃখ বের করে দিন। আড্ডা স্ট্রেস কমানোর অন্যতম সহজ সমাধান। তবে দুটো জিনিস মাথায় রাখতে হবে। আড্ডার ফাঁকে সিগারেট ধরাবেন না। তাতে স্ট্রেস বাড়বে। আর আড্ডায় যেন সমমনস্ক সঙ্গী থাকে। আড্ডা ঝগড়ায় পর্যবসিত হলে আখেরে লাভ নেই।
পরনিন্দা-পরচর্চা বা পিএনপিসি নিয়ে যতই সমালোচনা থাক, পরনিন্দা বা পরচর্চার অর্থ হল মনের ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভ-দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া। তাতে স্ট্রেস অনেকটাই কমে যায়। শুধু দেখবেন, যাকে নিয়ে কথা বলছেন, তার কানে যেন সে সব না পৌঁছায়! যে সব বয়স্ক মানুষ বাইরে বেশি বেরতে পারেন না, তাঁদের মধ্যে এই ধরনের পরচর্চা মন ভালো রাখে। ক্ষোভ, রাগ বা দুঃখ যদি দীর্ঘদিন চেপে রাখা হয়, তাহলে তা ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বই পড়া, ছবি আঁকা বা হবির মতো বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দিন। যদি পুজো করতে ভালো লাগে বা সাইকেল চালাতে ভালোবাসেন, তাহলে সেটাই করুন।
৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোন। ঘুমের দু’ঘণ্টা আগে থেকে মোবাইল ফোন সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। সমাজ মাধ্যমে দেখা বিভিন্ন বিষয় আমাদের স্ট্রেস বৃদ্ধি করে। একইভাবে ঘুমানোর আগে টিভি থেকেও দূরে থাকুন।
সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ শেষ করতেই হবে, এই মনোভাব ত্যাগ করুন। করা অসম্ভব এমন টার্গেট সেট করলে মনের চাপ বাড়বেই!
যে সব বিষয়ে স্ট্রেস হয়, সেগুলি একজায়গায় লিখে ফেলুন। তার মধ্যে যেগুলি নিজেই সারিয়ে ফেলা সম্ভব, সেগুলি আলাদা করুন। উপকার পাবেন।
লিখেছেন: শুভজিত্ অধিকারী