বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ‘সুপারম্যান’-এর সুপার ভিলেন লেক্স লুথার খ্যাত অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের নিথর দেহ। পাশেই পড়েছিল তাঁর স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া ও পোষ্য সারমেয়র মৃতদেহ। বুধবার আমেরিকার অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে’র বাসভবন থেকে দেহগুলি উদ্ধার করে পুলিস। স্ত্রী ও পোষ্য সহ দু’বার অস্কারজয়ী অভিনেতার মৃত্যুতে দানা বেঁধেছে রহস্য। তোলপাড় বিনোদন জগৎ। হ্যাকম্যানের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না করলেও পুলিসের দাবি, অস্বাভাবিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়নি। সান্তা ফে’র কাউন্টির শেরিফ আদান মেন্ডোজার জানিয়েছেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে তাঁদের মৃত্যুর নেপথ্যে অস্বাভাবিক কোনও কারণ নেই। অপরাধমূলক কাণ্ডের যোগ থাকাও প্রায় অসম্ভব। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
Advertisement
গত শতকের সেরা অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম হ্যাকম্যান। ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’ ও ‘আনফরগিভেন’ ছবির জন্য অস্কারজয়ী হ্যাকম্যান ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন অভিনেতা হওয়ার। কেরিয়ারের শুরুতে মঞ্চ ও টেলিভিশন জগতে অনেক কাজ করেছেন। সিনেমায় হাতেখড়ি ওয়ারেন বেটির ‘লিলিথ’-এর হাত ধরে। ১৯৬৭ সালে আর্থার পেনের ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইভ’ ছবিটির জন্য প্রথমবার অস্কার মনোনয়ন পান। দ্বিতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন ১৯৭০ সালে। ছবির নাম ‘আই নেভার স্যাং ফর মাই ফাদার’। ১৯৭১ সালে ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’-এর জিমি ‘পপাই’ ডয়েল চরিত্রে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পান। সেই ছবিই এনে দিয়েছিল প্রথম অস্কার। ১৯৭৮ সালে সুপারম্যান ছবিতে লেক্স লুথারের ভূমিকায় তাক লাগিয়েছিলেন জিন। অভিনয় থেকে অবসর নিয়েছিলেন দু’দশক আগে। ২০০৪ সালে। শেষ ছবি ‘ওয়েলকাম টু মুসপোর্ট’। ইদানীং জনসমক্ষে তাঁকে বেশি দেখা যেত না। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। ‘আনফরগিভেন’-এর পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা লিখেছেন, ‘একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারালাম।’



