Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্ত্রী, পরিবার সকলে জানত ধৃত জয়ন্ত গান অ্যান্ড শেলের কর্মী

স্ত্রী, পরিবার সকলে জানত ধৃত জয়ন্ত গান অ্যান্ড শেলের কর্মী
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ‘ওঁর জন্য গর্ব হতো। আমার ছেলেকে বলতাম, জেঠুকে দেখে শেখ। কীভাবে অভাব অনটনেও লেখাপড়া শিখে এত বড় চাকরি করছেন। তোকেও ওঁর মতো হতে হবে। কিন্তু যা শুনলাম, ছেলেকে আর সে কথা বলতে পারব?’ নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলেন বেঙ্গল এসটিএফ-এর হাতে ধৃত বেআইনি অস্ত্রের কারবারি জয়ন্ত দত্তের প্রতিবেশী পম্পা দত্ত। এলাকায় গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত জয়ন্ত দত্ত নাকি বেআইনি অস্ত্রে কারবারি! জয়ন্তর স্ত্রী সহ পরিবারের অন্যান্যরা এবং পম্পার মতো প্রতিবেশীরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না এ কথা। গোটা বিষয়টাই তাঁদের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। জয়ন্তর পরিবার চাইছে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসুক সে, আর প্রতিবেশীদের মুখে তার তীব্র নিন্দা। 
Advertisement
রবিবার সকালে শান্তিপুরের সূত্রাগড়ে জয়ন্তর দোতলা বাড়িটার সামনে জমাট ভিড়। বাড়ির চারদিকে উঁচু পাঁচিল আর গেট। চারপাশ সিসি ক্যামেরার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মোড়া। বাড়ির চারিদিকে জটলা করা ভিড়ে ফিসফাস— শেষ পর্যন্ত জয়ন্তর মতো সম্মানীয় মানুষের এই কাজ। উল্লেখ্য, ১৯০ রাউন্ড কার্তুজ সহ যে চার বেআইনি অস্ত্র কারবারি বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের অন্যতম জয়ন্ত দত্ত। এই বাড়িটি আদতে পৈত্রিক হলেও তা ঝাঁ চকচকে হয়ে ওঠে জয়ন্ত হাত ধরেই। নিম্ন মধ্যবিত্ত পাড়ার মাঝে সেই বাড়ি দেখলেই বোঝা যায় জয়ন্তর আয় ছিল ঈর্ষণীয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভাবের পরিবারে স্বপ্নের মতো উত্থান জয়ন্তর। একসময়ে হঠাৎ কলকাতার গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরিতে সে চাকরি পেয়েছে বলে জানাজানি হয় পাড়ায়। নিয়মিত শান্তিপুর থেকেই ডেলি প্যাসেঞ্জারি করত সে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী বলে কথা। পাড়াতেও তাই ‘সম্মান’ অর্জন করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বাড়ির সামনে ছোট্ট কালীপুজোতে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিত সে। কিন্তু ২০২১ সালে তাল কাটে। হঠাৎ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শান্তিপুরের বাড়ি ছাড়ে জয়ন্ত। মাধ্যমিক পড়ুয়া একমাত্র মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে যায়। ব্যাস, এরপর আর এ তল্লাটে তাকে কেউ দেখেনি। এমনকী পৈত্রিক বাড়িতে স্ত্রী, একমাত্র বিধবা দিদি এবং ভাগ্নি থাকলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতেও আর আসেনি জয়ন্ত। স্ত্রীর খরচ বাবদ সামান্য কিছু টাকা মাসে মাসে পাঠিয়ে দিত। গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরির কর্মচারী বলে কথা! ফলে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি মাথাও ঘামাননি জয়ন্তর প্রতিবেশীরা। কিন্তু হঠাৎ তার বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যোগের খবরে যেন বাজ পড়েছে সুত্রাগরের বেচু মিয়া রোডে। প্রতিবেশী পম্পা দত্ত বলেন, আমার পাশের বাড়ি ওঁর। ওঁর জন্য আলাদা সম্মান ছিল। কিন্তু উনি যে ধরনের কাজ করেছেন বলে শুনছি, তা তো এক প্রকার দেশদ্রোহিতা। অত্যন্ত নিন্দনীয় বিষয়। কীভাবে ওঁকে সমর্থন করা যেতে পারে। এদিকে জয়ন্তর স্ত্রী সহ পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে চাইছেন না জয়ন্তর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ। তাঁরা চাইছেন, নির্দোষ হয়ে ফিরে আসুক জয়ন্ত। স্ত্রী সোমা দত্ত বলেন, আমাদের যখন সম্বন্ধ করে বিয়ে হল তখন শ্বশুর মশাই বলেছিলেন, উনি গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। আমরা আর খোঁজ নিইনি। আজ কুড়ি বছর বিয়ে হয়ে গেল আমি তাই জানতাম। এত বছর সংসার করেছি আমার কোনওদিন ওঁকে সন্দেহ হয়নি। উনি এমন কাজ করতে পারেন বলেও বিশ্বাস করতে পারছি না। শেষ কয়েক বছর অবশ্য থাকছিলেন না আমার সঙ্গে আর। আমার মেয়েও থাকত তার কাছেই। শুনেছি অন্য একজন মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাস, এর বেশি আমাদের পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। জয়ন্তর দিদি জয়ন্তী দে দত্ত বলেন, ওর বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ