Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সতীপীঠকে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা জেলা পরিষদের

সতীপীঠকে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা জেলা পরিষদের
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: বীরভূমের বক্রেশ্বর সতীপীঠের উন্নয়নের জন্য বীরভূম জেলা পরিষদ একাধিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পীঠস্থানের নানা সমস্যা নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। আর তাই প্রশাসন এই সতীপীঠের সার্বিক সংস্কারে নামতে চলেছে। এর জন্য এক কোটি টাকার বেশি খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে সতীপীঠের পাশের উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকার উন্নয়ন থেকে শুরু করে পথবাতি, হাইমাস্ট লাইট, শ্মশান সংস্কার, শৌচাগার সংস্কার ও নতুন শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্রেশ্বর সতীপীঠ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা ফেলা বা অপরিষ্কার রাস্তাঘাট নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। তাই রাস্তাঘাট সহ সতীপীঠের মন্দির ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য আবর্জনা ফেলার একটি নির্দিষ্ট জায়গাও করা হবে। উষ্ণ প্রস্রবণের স্নানাগারগুলির নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার ও সংস্কার করা হবে। মন্দিরের পাশেই একটি পুকুর রয়েছে। উষ্ণ প্রস্রবণে স্নানের পর তাতে অনেকেই স্নান করেন। এমনকী এলাকার মানুষ ও পর্যটকরা অন্যান্য কাজেও ওই পুকুরের জল ব্যবহার করেন। কিন্তু পুকুরটি আবর্জনায় ভরে গেছে বলে অভিযোগ। তাই পুকুরটি পরিষ্কার করে সেখানে ঘাট তৈরি করা হবে। এছাড়া মন্দির সংলগ্ন জায়গায় একাধিক উষ্ণ প্রস্রবণের কুণ্ড রয়েছে। সেই কুণ্ডগুলিও পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকার একমাত্র শৌচালয়টি সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে নতুন একটি শৌচালয় তৈরি করার ভাবনাও রয়েছে। বক্রেশ্বর সতীপীঠের সঙ্গে একই জায়গায় অনেক ছোট মন্দির আছে। মন্দিরগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। কথিত আছে, বিভিন্ন সময় বহু সাধু সাধনা করার পর মন্দিরগুলি তৈরি করে গেছেন। সংস্কারের অভাবে সেগুলি আজ ভগ্নদশায় রয়েছে। সেই মন্দিরগুলিও এবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সতীপীঠ ও শ্মশান এলাকার রাস্তায় একাধিক পথবাতি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। সেগুলিও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে এই এলাকায় তিনটি হাইমাস্ট লাইটও লাগানো হবে। বক্রেশ্বরকে ঘিরে বিভিন্ন পৌরাণিক সামগ্রী অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনের তরফে সেগুলি একত্রিত করে একটি সংরক্ষিত জায়গায় রাখার ভাবনা রয়েছে। এই সার্বিক কাজের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের আর্বান ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের কাছে অনুমোদনের জন্য তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অনুমোদন এলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। 
উল্লেখ্য, সারাবছর জেলার এই সতীপীঠে লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসেন। শীতের মরশুমে উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য সবচেয়ে বেশি পর্যটকের ভিড় হয়। বক্রেশ্বরের উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পর্ষদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। এপ্রসঙ্গে বীরভূম জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা বক্রেশ্বর সতীপীঠ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছি। এর জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার জন্য একটি পরিকল্পনা রাজ্যস্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ