নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তেজনায় থরথর করছে গোটা প্রেক্ষাগৃহ। মঞ্চে উপবিষ্ট বিশিষ্টরা এবং দর্শক। সবার মধ্যেই চরম উৎকণ্ঠা। ৪৩ জন লেখকের মধ্যে কোন তিনজন হবেন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়? শুরু অপেক্ষার প্রহর গোনা। নিউটাউনের সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে হল ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ আয়োজিত ‘গল্পের খোঁজে জেলায় জেলায় ২০২৬’-শীর্ষক প্রতিযোগিতার ‘মৌ রায়চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ বিতরণ।
‘বর্তমান’ খবরের কাগজের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্ত জেলার খবরকে গুরুত্ব দেওয়ার রীতি চালু করেছিলেন। সেই রীতিই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ পত্রিকা আয়োজন করেছিল এই প্রতিযোগিতার। এর অন্যতম বিচারক রবীন্দ্র গবেষক মীনাক্ষী সিংহের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন। বললেন, ‘বাংলা সাহিত্য কৃতজ্ঞ থাকবে এই উদ্যোগের জন্য।’ অপর বিচারক সাহিত্যিক অমর মিত্র এই প্রতিযোগিতাকে ‘বিরাট ঘটনা’ বলে বর্ণনা করলেন। জেলার লেখক, সাহিত্যিকদের সামনে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা তাঁদের পাশাপাশি সকলেরই মন জয় করেছে। শিল্পোদ্যোগী সত্যম রায়চৌধুরীর প্রস্তাব, এই ৪৩টি গল্প নিয়ে সংকলন প্রকাশ করার। তা সমর্থন করলেন তৃতীয় বিচারক শুভাশিস ভাদুড়ী।
বর্তমান-এর দপ্তরে জমা পড়া ১৫ হাজার গল্পের মধ্যে ঝাড়াই বাছাই করে ৪৩ গল্প চূড়ান্ত হয়েছিল। সেগুলি পরপর প্রকাশিত হয়েছে সাপ্তাহিক বর্তমানে। এরপর তিন বিচারকের উপর দায়িত্ব পড়ে প্রথম তিনটি বেছে নেওয়ার। সেই ঘোষণা কখন হবে?
মঞ্চের উপর তখন ‘বর্তমান’-এর সম্পাদক হিমাংশু সিংহ, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কর্ণধার সত্যম রায়চৌধুরী, সাহিত্যিক অমর মিত্র, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, রবীন্দ্র গবেষক মীনাক্ষী সিংহ, কবি শুভাশিস ভাদুড়ী। তাঁরা উপহার তুলে দিচ্ছেন লেখক, লেখিকাদের হাতে। শেষে রইলেন বাকি তিনজন। তাঁরাই কি তাহলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানাধিকারী? সভাস্থলের কৌতূহল তুঙ্গে উঠে গিয়েছে ততক্ষণে। অবশেষে প্রকাশ্যে এল তিনজনের নাম। প্রথম স্থান দখল করলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের শুভ্রদীপ চৌধুরী। তাঁর গল্প, ‘পরবাসু এবং মাগুরশোল’। দ্বিতীয় বাঁকুড়ার রাজীব তন্তুবায়। তাঁর গল্প, ‘পাত কাওয়া’। তৃতীয় জলপাইগুড়ির রঙ্গন রায়। তিনি লিখেছেন, ‘প্রলয়’। প্রথম পুরস্কার ১ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার। তৃতীয় ৩০ হাজার। বিজেতাদের হাতে চেক তুলে দিলেন সত্যমবাবু, হিমাংশুবাবু ও সাপ্তাহিক বর্তমানের সম্পাদক তাপসী দাস। সঙ্গে দিলেন মানপত্র ও সুদৃশ্য স্মারক।
অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল অনুভা সেনের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে। শেষ হল শান্তনু রায়চৌধুরীর ‘জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই’ গানটি দিয়ে। অনুষ্ঠান শেষে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, ‘আসছে বছর আবার হবে’। প্রেক্ষাগৃহ হাততালিতে ফেটে পড়ছে তখন।