কুন্তল পাল, বনগাঁ: সীমান্ত শহর বনগাঁ। নানা থিম ও সাবেকিয়ানায় সেজে উঠছে শহর। সাজছে মণ্ডপ। যদিও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গাপুজো আধুনিক হয়ে উঠছে। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের স্মৃতি। এবছর দুর্গাপুজোয় বর্তমান প্রজন্মের কাছে হারানো স্মৃতি তুলে ধরবে বনগাঁ প্রফুল্লনগর সাংস্কৃতিক চক্র (সাহাপাড়া)। এবছর তাদের পুজোর থিম ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’। হরেক ঢঙের স্বপ্ন ফেরি করবে তারা। ৭৭তম বর্ষে পা দিল প্রফুল্লনগর সাংস্কৃতিক চক্রের দুর্গাপুজো। মণ্ডপে থাকবে বাদাম বিক্রেতা, চুড়ি বিক্রেতা সহ অন্যান্য হকারদের জীবনী, গল্প।
বনগাঁর শিল্পী প্রশান্ত পালের ভাবনায় সেজে উঠছে মণ্ডপ। শিল্পীর দাবি, ছোটবেলায় সাইকেলে করে কাঠের বাক্সে বিভিন্ন রঙের আইসক্রিম নিয়ে হাঁক দিতেন আইসক্রিমওয়ালা। সন্ধ্যায় দূর থেকে ভেসে আসত ঘটিগরম কাকুর ঘুঙুরের আওয়াজ। এখনকার ছেলে মেয়েদের কাছে অজানা এসব স্মৃতি। কালের নিয়মে তাঁরা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা হকারি করেন, তাঁরা স্বপ্ন দেখেন। পরিবারকে স্বপ্ন দেখান। তাঁদের স্বপ্নই ফুটে উঠবে প্যান্ডেলে। শিল্পী বলেন, ‘একটা মেলার মাধ্যমে হকারদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করাতেই এই ভাবনা।’
নারী নির্যাতন নিয়ে পুজোয় থিমের ভাবনা বনগাঁ মতিগঞ্জ ঐক্য সম্মিলনীর। এবছর তাদের থিম ‘চাই না হতে উমা’।
৫৯তম বর্ষে তাদের থিমে ফুটে উঠবে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের ঘটনা। ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে যেভাবে নারীদের উপর নির্যাতন হচ্ছে সেই ঘটনার প্রতিবাদ আমাদের থিম ফুটে উঠবে।’ পাশাপাশি আফ্রিকার জঙ্গলে আপনাকে স্বাগত জানাবে বনগাঁ জাগ্রত সংঘ। আফ্রিকার অধিবাসী ও জীবজন্তুর নানা কাহিনি ফুটে উঠবে। তাদের থিম ‘ওয়েলকাম টু আফ্রিকা’। নিজস্ব চিত্র