সংবাদদাতা, ঝালদা: সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে কমছে পুরুলিয়া জেলার একাধিক জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা। ঝালদা-২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত পারগা, ডিমু, মুরুগুমা সহ একাধিক জলাধার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই জলাধারগুলির উপর নির্ভর করেই এলাকার বহু গ্রামের চাষাবাদ চলে। জলাধারের জল সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পৌঁছায়। কিন্তু, গরমকালে এই জলাধারের জল শুকিয়ে যাওয়ায় ক্যানেলের মাধ্যমে গ্রামে পৌঁছায় না। এর ফলে সমস্যায় পড়ছেন বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা। তাই জলাধারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষক মহলে।
পুরুলিয়া জেলার অধিকাংশ চাষ বৃষ্টির জলের উপর নির্ভরশীল। বর্ষার সময় ধান ও পরবর্তী সময় নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। তবে, বর্ষার পরে জমিতে চাষ করার জন্য এই জলাধারগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দিনের পর দিন সংস্কার হয়নি। তার ফলে জলাধারগুলিতে পলি জমছে। কমছে জলধারণ ক্ষমতা। ফলে গ্রীষ্মকালে অনেক জলাধার শুকিয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে কৃষিকাজে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে সেচ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জলাধার তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় এলাকার কৃষকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে জলাধারগুলি নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সেগুলির অবস্থা খারাপ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে মুরুগুমা জলাধার-সহ জেলার একাধিক জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
পারগা এলাকার বাসিন্দা রবি মাহাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাধারগুলি এই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে কংক্রিটের কোনো সমস্যা দেখা গেলে সামান্য সংস্কার করা হয়। কিন্তু ড্রেজিং করে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ডিমু এলাকার বাসিন্দা শ্রীমতী মাহাত বলেন, প্রতি বছর গ্রীষ্মকাল এলেই জলাধারের জল শুকিয়ে যায়। বহু বছর আগে এই জলাধার তৈরি হলেও তারপর থেকে বড়ো ধরনের সংস্কারের কাজ হয়নি। জলাধারগুলি সংস্কার হলে আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। কারণ এলাকার অনেক পরিবার এই জলাধারের জলের উপর
নির্ভর করে।
এই বিষয়ে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাত বলেন, রাজ্যের নতুন বাজেটে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। পুরুলিয়া সহ জঙ্গলমহলের রাঢ় অঞ্চলে সেচের জলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই জলাধারগুলি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এগুলি সংস্কার হয়নি। আমাদের দাবি, নতুন সরকার বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাধারগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত সংস্কার করা গেলে এলাকার কৃষিকাজের উন্নতির পাশাপাশি জল সমস্যারও অনেকটা সমাধান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।