Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ, হকারদের স্বস্তি কোর্টে, কং-বাম আন্দোলন অব্যাহত

কলকাতা হাইকোর্টে হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিলেন বিচারপতি। আন্দোলনের মধ্যে কংগ্রেস-বামের বিক্ষোভ অব্যাহত। বিস্তারিত পড়ুন।

উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ, হকারদের স্বস্তি কোর্টে, কং-বাম আন্দোলন অব্যাহত
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলল! আপাতত হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিল বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলের হাতে থাকা জমিতে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, ১৭ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থগিত রাখতে হবে। 

Advertisement

এর আগে যাদবপুর, হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনিসহ বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। উচ্ছেদের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হকাররা। আদালত জানিয়েছে, সেই সমস্ত সব মামলার শুনানি হবে ১৭ জুন। শুনানির আগে উচ্ছেদ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না। উল্লেখ্য, যাদবপুরের হকার উচ্ছেদের ঘটনা সংক্রান্ত মামলাটিও শুনানি হবে ১৭ জুন। গত রবিবার রাতে উচ্ছেদ অভিযানের পর সোমবার মামলার দ্রুত শুনানির আরজি জানানো হয় বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে। মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটির বিশেষ বেঞ্চে মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলার শুনানি এখনো হয়নি। এদিকে, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেসের পথের সংগ্রামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বুধবার দুপুরে বাম-কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, রেলওয়ে ও পথ হকারদের সংগঠনের ডাকে ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিআইটিইউ ও এআইইউটিইউসির প্রতিনিধি দল রেলের জিএম অফিসে তাদের দাবি সনদ প্রদান করেন।  সমাবেশ থেকে সিআইটিইউর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেন, ‘রেল আমাদের দেশের লাইফ লাইন। আমরা কেউ তার প্রসারের বিরোধী নই। হকাররাও এর বিরোধিতা করছেন না। সব পেশাই মানেুষের কাছে মহান। সংবিধানে হকারি পেশা কি নিষিদ্ধ? নির্দিষ্ট নোটিস না দিয়ে কেন তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে? হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা না করলে সমস্যা বাড়বে।’ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্গী চট্টোপাধ্যায়, রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের সম্পাদক দীপঙ্কর শীল, সভাপতি অলোকেশ দাস প্রমুখ। একই সময় লোকভবন অভিযান করেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। হকার উচ্ছেদ, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে এই অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। আটক করা হয় শুভঙ্কর সরকারসহ অন্যান্য নেতৃত্বকে। এই বিষয়ে তিনি রাজ্যপালকে স্বারকলিপিও দেন। একই ইস্যুতে সন্ধ্যায় যাদবপুরে নাগরিক মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতেও হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় বাঘাযতীন স্টেশনে এসইউসিআই ও সিপিএম নেতৃত্ব হাজির হন। এসইউসিআই নেতৃত্বের দাবি, রেলযাত্রী হকার সমন্বয় কমিটির লাগাতার শক্তিশালী আন্দোলনের চাপে গার্ডরেল তুলে নেয় পুলিশ। সেই রাতেই কোন্নগর স্টেশনে উচ্ছেদ ঠেকাতে পৌঁছে যান সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং অন্য নেতারা। সূত্রের খবর, বুধবার আলিমুদ্দিনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও হকার আন্দোলন প্রসঙ্গ উঠেছিল। আন্দোলন তীব্র করার  কথাই বলেছেন নেতৃত্ব।  লোক  ভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ