নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আলিপুর বোমা মামলা’য় বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষ, উল্লাসকর দত্তদের হয়ে আইনি লড়াই করেছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস। আলিপুর জজ কোর্টে দেশবন্ধুর প্রতিকৃতি ও তাঁর নামাঙ্কিত উদ্যান এখন দেখভালের অভাবে পড়ে রয়েছে চরম অনাদরে। ফি বছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে তাঁর ওই প্রতিকৃতিতে মালা দেওয়া হয়। ব্যাস, ওইটুকুই। বছরের বাকি সময় ওই উদ্যান পড়ে থাকে অবহেলায়। আদালতে আসা অনকেই এ নিয়ে ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেছেন। আইনজীবীদের একাংশও ক্ষুব্ধ। তাঁদের কথায়, ‘এই আদালতে আলিপুর বোমা মামলার শুনানি হয়েছে, এটাই আমাদের কাছে গর্বের। কোর্ট চত্বরে দেশবন্ধুর প্রতিকৃতি আমাদের কাছে বড়ো প্রাপ্তি। তাঁর প্রতিকৃতিকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। অথচ সেই মূর্তি ও উদ্যান চত্বরে নোংরা‑আবর্জনায় পড়ে থাকাটা বেমানান।’
ইতিহাস বলছে, আলিপুর জজ কোর্টেই সেই বোমা মামলায় স্বাধীনতা সংগ্রামী অরবিন্দ ঘোষদের হয়ে আইনি লড়াই লড়েছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। তাঁর বলিষ্ঠ যুক্তির কারণেই সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন অরবিন্দ ঘোষ। দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন বিপ্লবী বারীন ঘোষ ও উল্লাসকর দত্ত। তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও পরে সেই সাজা কমে হয় যাবজ্জীবন।
আলিপুর জজ কোর্টের উদ্যান নোংরা‑আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। চারদিকে পড়ে রয়েছে
গাছের শুকনো পাতা। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের আবক্ষ মূর্তির উপর পড়েছে ধুলোর প্রলেপ। এক সময় ধূমধাম করে দেশবন্ধু, পরবর্তীকালে অরবিন্দের মূর্তি বসানো হয়েছিল। আজ দু’টি মূর্তিই অবহেলার শিকার। উদ্যানের গা ঘেঁষে থাকা রেলিং পড়ে রয়েছে ভাঙাচোরা অবস্থায়। অন্যদিকে, উদ্যানের বড়ো অংশই চলে গিয়েছে পার্কিংয়ের কবলে। আলিপুর আদালতের কৌঁসুলি দীপঙ্কর মণ্ডল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘দু’টি মূর্তির মাথায় শেড থাকলে ভালো হতো। তাহলে গাছের পাতা, ধুলো কিছুটা হলেও আটকানো যেত। যাঁদের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেইসব মণীষী ও বিপ্লবীদের মূর্তি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।’