Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হকার উচ্ছেদের পর নিশ্চুপ স্টেশন, রোজকার অভ্যাসে বদল যাত্রীদের

কৃষ্ণনগর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের পর যাত্রীদের অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। দোকানদারদের কষ্টের গল্প জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

হকার উচ্ছেদের পর নিশ্চুপ স্টেশন, রোজকার অভ্যাসে বদল যাত্রীদের
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অমিয়কুমার বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর: ট্রেন থামছে, যাত্রীরা নামছেন, প্ল্যাটফর্মে মানুষের ভিড়ও হচ্ছে যথারীতি। কিন্তু, কোথাও যেন একটা বড় শূন্যতা। নেই সেই চেনা ডাক-গরম চা, ডালপুরি, গরম গরম চপ। নেই ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ছুটে গিয়ে খাবার কেনার ব্যস্ততা। বহু বছরের পরিচিত সেই কোলাহল থেমে যাওয়ায় কৃষ্ণনগর রেল স্টেশনের পরিবেশ আজ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সম্প্রতি রেলের উচ্ছেদ অভিযানে রুজি রুটি হারিয়েছেন স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা হকার ও দোকানদাররা। হয়তো এতে যাত্রী চলাচলে সুবিধা হয়েছে। কিন্তু, পেটে টান পড়েছে ওইসব হকার ও দোকানদারদের। এরপর হয়তো রেল কর্তৃপক্ষ স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন করে বাড়তি জায়গা ব্যবসা করার জন্য লিজও দিতে পারে। তরে রোজকার অভ্যাসে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে নিত্যযাত্রীদেরও।

Advertisement

প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে অসংখ্য মানুষের যাতায়াত। তাঁদের অনেকেই স্টেশনের কাছে ডালপুরি, চা কিংবা চপ কিনে খেতেন। অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে স্টেশনে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা বা ডালপুরি খেয়েই দিন শুরু করতেন। তার মধ্যে পরিচিত নাম ‘পরেশের চা’,  ‘গৌর কেবিনের ডালপুরি’, ‘তারা মা স্টলের চপ’ ইত্যাদি।
কলকাতাগামী নিত্যযাত্রী রবেন মণ্ডল আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টায় ট্রেন ধরে কলকাতা যেতে হয়। সেই সময় বাড়ির খাবার তৈরি হয় না। স্টেশনে এসে ডালপুরি কিনে খাওয়াটা ছিল আমার রোজকার রুটিন। এত বছর ধরে খেতে খেতে দোকানদারদের সঙ্গে আত্মীয়ের মতো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই দোকানটাই নেই।  খুব খারাপ লাগছে।
সৌরভ টিকাদার বলেন, যখন রাতে ফিরি, তখন কৃষ্ণনগরে নেমে পরেশের দোকানের চায়ে চুমুক দিয়েই বাড়ি আসতাম। খেটে খাওয়া মানুষদের দোকানগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এটা সত্যিই কষ্টের। যদিও এতে অবশ্যই যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা হবে, স্টেশন আরও সুন্দর হবে। 
চোখে জল নিয়ে চায়ের দোকানদার অপরেশ রায় বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিল তিল করে এই দোকান গড়ে তুলেছিলাম। একদিনে সব শেষ। এখন কোথায় বসব, কীভাবে সংসার চালাব, কিছুই জানি না। একই রকম কথা বললেন দীর্ঘদিনের চপ বিক্রেতা ছোট্ট দাস। তিনি জানান, প্রায় দু’দশকের বেশি সময় ধরে এখানে চপ বিক্রি করছি। এই দোকানের আয়েই আমার সংসার চলত। অনেক যাত্রীর সঙ্গেই আত্মীয়ের মতো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। এখন কী করব জানি না।
স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এমন গল্প শুধু একজনের নয়, শত শত নিত্যযাত্রীর ও হকারদের। বছরের পর বছর ধরে দোকানদাররা তিল তিল করে তাঁদের ব্যবসা জমিয়েছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ