


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্মীয় স্থানে মাইক-লাউডস্পিকার বাজানোর ক্ষেত্রে কড়া নিয়ন্ত্রণ চাইছে রাজ্যের নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ, শব্দবিধি মেনে ধর্মস্থানে লাউডস্পিকার বাজানো হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি চালাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ধর্মগুরুদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। শব্দবিধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মানা না হলে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সবটাই হবে বোঝানোর মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি পুলিশকর্তাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যত্রতত্র গোরু-মোষ হত্যা বন্ধে জারি হওয়া নির্দেশিকার কথাও। পুরসভা বা পঞ্চায়েত সমিতির স্বীকৃত জায়গা ছাড়া গোরু-মোষ জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বুধবারই রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৪ বছরর বেশি বয়স, আঘাত, বিকৃতি বা দুরারোগ্য ব্যধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম প্রাণীকেই শুধুমাত্র জবাই করা যাবে। উপরন্তু তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শংসাপত্র লাগবে। এদিন পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বত্র প্রচার করুন। এই নিয়ম না মানলে জেল-জরিমানা দুই হতে পারে। এরই পাশাপাশি রাস্তা আটকে ধর্মাচরণের প্রক্রিয়া যাতে বন্ধ করা যায়, তার উপর নজরদারি চালাতেও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পর্বেই কাল, শনিবার ডায়মন্ডহারবার যাচ্ছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কলকাতার বাইরে এটাই তাঁর প্রথম সফর। আগামী ২১ মে ডায়মন্ডহারবার মহকুমার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
শুভেন্দুর এই নির্দেশের পরই তৎপরতা শুরু হয়েছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতার সমস্ত থানা, জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারেটে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়েছে, মাইক সংক্রান্ত বিধি প্রয়োগের জন্য ইমাম, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মগুরুদের সঙ্গে বৈঠক করুন। শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। অমান্য করার ঘটনা বারবার ঘটলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরদিকে পরিবেশ আদালতের নিয়মানুযায়ী, বসতি এলাকায় থাকা ধর্মীয় স্থানে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত মাইক বাজানো যায়। শিল্পতালুক এবং ব্যবসায়িক এলাকায় এই মাত্রা কিছুটা বেশি। তবে বেশিরভাগ ধর্মস্থান যেহেতু বসতি এলাকায়, তাই শব্দের মাত্রা ৫৫ ডেসিবেলে সীমাবদ্ধ। কিছু বিশেষ উৎসব ও অনুষ্ঠানে ৬৫ ডেসিবেল পর্যন্ত ছাড় ছিল এতদিন। এই পর্বে অভিনব এক প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাখতে চান উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই। তাঁর কথায়, একটা অ্যাপ বানিয়ে দেওয়া হোক। পাঁচবার নামাজের সময় জানাবে ওই অ্যাপই। মাইক বাজানোর আর প্রয়োজনই হবে না।