Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামে আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও ১৩০০ বিসি সখী নামাবে রাজ্য, দুয়ারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা

জলপাইগুড়ির বিচিত্রা ভৌমিকের কথাই ধরুন, কিংবা পূর্ব মেদিনীপুরের মামনি প্রধান— তাঁরা গ্রামে মানুষের দুয়ারে গিয়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দিচ্ছেন।

গ্রামে আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও ১৩০০ বিসি সখী নামাবে রাজ্য, দুয়ারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জলপাইগুড়ির বিচিত্রা ভৌমিকের কথাই ধরুন, কিংবা পূর্ব মেদিনীপুরের মামনি প্রধান— তাঁরা গ্রামে মানুষের দুয়ারে গিয়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দিচ্ছেন। ব্যাঙ্কের পরিভাষায় তাঁদের বিজনেস করেসপন্ডেন্ট সখী (বিসি সখী) বলা হয়। সকাল-বিকেল কিংবা রাত-বিরেতেও প্রয়োজনে তাঁদের মাধ্যমে টাকা তুলছেন কেউ কেউ। আবার কেউ তাঁদের মাধ্যমেই ইএমআইয়ের টাকা জমা দিচ্ছেন। এই বিসি সখীরা আদতে ব্যাঙ্কের এজেন্ট। টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো রয়েছে তাঁদের কাছে। গত কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ এলাকায় এই পরিষেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই আর রোদ-জলে ব্যাঙ্কে যেতে চান না। বরং ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দুয়ারে চলে আসায় লেনদেনের সংখ্যা ও টাকা জমা বা তোলার পরিমাণ উত্তরোত্তর বেড়েছে। এ কথা মাথায় রেখেই একলপ্তে ১৩০০ বিসি সখী নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। বর্তমানে গোটা রাজ্যে ৯২০ জন বিসি সখী বিভিন্ন গ্রামে কাজ করছেন।

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-’২৪ সালে তাঁদের মাধ্যমে ১৯ লক্ষ ২৯ হাজারটি ডিজিটাল লেনদেন হয়েছিল। টাকা তোলা ও জমা মিলিয়ে টাকার অঙ্কে তার পরিমাণ হয়েছিল ৮৬৪ কোটি। গত অর্থবর্ষে ডিজিটাল লেনদেন বেড়ে হয় হয়েছে ৪৯ লক্ষ। টাকার অঙ্কও একলাফে বেড়ে হয়েছে ২,৪৯০ কোটি। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, গ্রামের অর্থনীতি দুয়ারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উপর কতটা নির্ভরশীল। অনেক জায়গায় এই মহিলারা ব্যাঙ্কের অন্যান্য কাজ করতেও সাহায্য করেন গ্রাহকদের। যেমন, সাধারণ মানুষকে অ্যাকাউন্ট খুলতেও সাহায্য করেন তাঁরা। আপাতত বিভিন্ন জেলা থেকে কারা বিসি সখী হবেন, তার নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তারপর তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সবশেষে এই মহিলারা একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁরা ব্যাঙ্কের এজেন্ট হিসেবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিসি সখীর কাজ করবেন। দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, শুধু সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই নয়, এই কাজ করার জন্য বিসি সখীরাও ভালো রোজগার করছেন। গত অর্থবর্ষে ৯০০ জন মহিলা রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় কাজ করে ৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার মতো জেলায় আর্থিক লেনদেনের হার অন্য জেলার তুলনায় অনেকটাই বেশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ