Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কালনায় পেঁয়াজ হাব তৈরিতে উদ্যোগী রাজ্য

বছরভর পেঁয়াজের জোগান দেওয়ার জন্য নাসিকের সুনাম দেশজোড়া। উৎপাদন ও সংরক্ষণে তাক লাগিয়ে মহারাষ্ট্রের এই এলাকাটি বিখ্যাত হয়েছে ‘পেঁয়াজের গোলা’ হিসেবে।

কালনায় পেঁয়াজ হাব তৈরিতে উদ্যোগী রাজ্য
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: বছরভর পেঁয়াজের জোগান দেওয়ার জন্য নাসিকের সুনাম দেশজোড়া। উৎপাদন ও সংরক্ষণে তাক লাগিয়ে মহারাষ্ট্রের এই এলাকাটি বিখ্যাত হয়েছে ‘পেঁয়াজের গোলা’ হিসেবে। পশ্চিমবঙ্গে পেঁয়াজ ফললেও, এখানকার বাজারগুলি অনেকটাই নির্ভরশীল নাসিকের উপরই। তবে ধাপে ধাপে সেই নির্ভশীলতা কাটিয়ে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হতে চাইছে রাজ্য। তাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা। বছরভর বাংলার পেঁ‌য়া঩জের জোগান বাড়াতে একেবারে নাসিকের মডেলেই পেঁয়াজ হাব গড়ে উঠছে এখানে। পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ—দু’টিতেই জোর দিচ্ছে রাজ্য। সাফল্যও মিলছে হাতেনাতে। আগামী দিনে নাসিককে ‘টক্কর’ দেওয়াকেই পাখির চোখ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।  

Advertisement

উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা রাজ্যেই এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। এই রবি মরশুমে পেঁয়াজের উৎপাদন ৭ লক্ষ টন ছাড়িয়েছে, যা সর্বকালীন রেকর্ড। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে সেই পেঁয়াজ উঠতে শুরু করার পর তার একটা বড় অংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্য সরকার পেঁয়াজ সংরক্ষণের ‘গোলা’ তৈরির জন্য চাষিদের উৎসাহিত করেছে। গোলা তৈরির খরচের অর্ধেক ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। 
সরকারি উদ্যোগে কালনা-২ ও পূর্বস্থলী-১ ব্লকে দু’টি ৪০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন পেঁয়াজ সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি নতুন করে এবছর আরও ১১২টি ঘরোয়া পেঁয়াজ সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য অনুমোদন এবং কৃষকদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। সুফল বাংলা স্টলের জন্য সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছে। সরকারি এমন উদ্যোগে খুশি চাষিরা। এই এলাকায় প্রতিবারই ব্যাপক পেঁয়াজ চাষ হয়। একসময় ভালো দাম মিলত না। এখন তা মেলায় চাষ ও সংরক্ষণে উৎসাহী হচ্ছেন চাষিরা। বাড়ছে পেঁয়াজের জমির পরিমাণ। জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির এক আধিকারিক বলেন, পেঁয়াজের জন্য আমাদের ভিন রাজ্যের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। নাসিককে পেঁয়াজের গোলা বলা হয়। রাজ্যের কালনা মহকুমায় সাড়ে চার হাজার হেক্টরের বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়। বিগত কয়েক বছরে বেড়েছে চাষের জমির পরিমাণ। সরকার কালনা মহকুমাকে পেঁয়াজের গোলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে মহকুমায় তিনশোর বেশি ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এবারও নতুন করে ১১২ জন উৎসাহী কৃষককে আর্থিক ভর্তুকিতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এই সংরক্ষণে খরচ অনেক কম, লাভ বেশি। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের সহকারী কৃষি আধিকারিক জীবনচন্দ্র নাথ বলেন, শুধু এই ব্লকে ১ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। এবার উৎপাদন ভালো। পেঁয়াজ উঠতেই বাজারে ভালো দামও রয়েছে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে চাষিরা উপকৃত হবেন।
এদিকে, রাজ্য সরকারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানিয়েছেন, অন্তত ১৪০০ গোলায় এবার পেঁয়াজ রাখা হয়েছে। রাজ্যের পেঁয়াজ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বাজারের চাহিদা মেটাবে। পরে বেশি দাম মিলবে এই আশা করে বড় চাষিরা অনেকে পেঁয়াজ ‘ধরে’ রাখছেন। পাশপাশি মহারাষ্ট্র থেকেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে। সেখানেও প্রচুর উৎপাদন হওয়ার জন্য দাম কম। কলকাতার পাইকারি বাজারে এখন ১৩-১৭ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরো বাজারে দাম হচ্ছে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা। এই পরিস্থিতি চললে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম আরও কমে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন বলে আশা করছেন কমলবাবু। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ