নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুরসভায় এবার আছড়ে পড়ল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নায় দপ্তরের ‘পত্র বোমা’। পুর কর্তৃপক্ষের একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। গত সপ্তাহে মেয়র এই চিঠি পেয়েছেন। পাঁচ দিনের মধ্যে চিঠির উত্তর দিতে বলা হয়েছে। বেনিয়মের কথা উল্লেখ করে কেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পেয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে গণ ইস্তফা দিতে পারেন আসানসোল পুরসভার মেয়র, চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা। আর সেটা হলে ভেঙে যাবে আসানসোল পুরসভার পুর বোর্ড।
পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যের পুরদপ্তর সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ পুরসভায় বোর্ড মিটিং না করায়। জানা গিয়েছে, মে, জুন দু’মাস ধরে পুরসভায় কোনো বোর্ড মিটিং হয়নি।। বোর্ড মিটিংয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। মিটিং ছাড়া পুর কর্তৃপক্ষ ঠিকভাবে কাজ করছে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, পুরসভার কাউন্সিলর সহ পুর কর্তাদের হাজিরাও অনিয়মিত। নাগরিক পরিষেবা বিপন্ন। পুর দপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি নিয়ম ভেঙ্গে পুরসভা কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি করের উপর কুড়ি শতাংশ ছাড় দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প হাউসিং ফর অল নিয়েও পুর কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে। উত্তর সন্তোষজনক না হলে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে।। রীতিমতো চাপে পড়েছেন মেয়র, চেয়ারম্যান সহ মেয়র পরিষদ সদস্যরা। এমনিতেই কাজ করতে পারছেন না এই অভিযোগ তুলে কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন। এই চিঠি আসার পর মেয়র, চেয়ারম্যান সহ বাকি কাউন্সিলারদের পদত্যাগের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আমার কাছে আসছে না। পুরমন্ত্রীর কাছে আমরা সময় চেয়েছিলাম। তার উত্তর পাইনি। দপ্তর থেকে একটি চিঠি এসেছে। আমরা তার উত্তর দিয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২৩ জুন বোর্ড মিটিং ডাকার জন্য আমি পুর কমিশনারকে অনুরোধ করেছিলাম। তারপরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেব, তা জানানো হবে।