Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ে এবার ‘জিপিএস ট্র্যাকিং’, অ্যাপ-নির্ভর ডেটাবেস, সক্রিয় রাজ্য পুলিসের এসটিএফ

পাসপোর্টের পুলিস ভেরিফিকেশনে বড়সড় বদল। জালিয়াতি ঠেকাতে এবার সরাসরি ভেরিফিকেশনে সঙ্গে যুক্ত থাকবে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ে এবার ‘জিপিএস ট্র্যাকিং’, অ্যাপ-নির্ভর ডেটাবেস, সক্রিয় রাজ্য পুলিসের এসটিএফ
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: পাসপোর্টের পুলিস ভেরিফিকেশনে বড়সড় বদল। জালিয়াতি ঠেকাতে এবার সরাসরি ভেরিফিকেশনে সঙ্গে যুক্ত থাকবে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তৈরি হবে অ্যাপনির্ভর ডেটাবেস। যা এতদিন রাখত না পুলিস। এছাড়াও পাসপোর্ট আবেদনকারীর বাড়ির জিপিএস ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে তাঁর জমা করা যেকোনও তথ্যই যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে।  রীতিমতো আঁটোসাঁটো হচ্ছে পাসপোর্ট যাচাই পর্ব। 

Advertisement

পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডে সম্প্রতি রাজ্যে আলোড়ন শুরু হয়েছিল। ভুয়ো নথি ব্যবহার করে হাতে গরম পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার সেই চক্রের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালায় পুলিস। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন আড়কাঠির সূত্র ধরে ভারতীয় পরিচয় পত্র, এমনকী পাসপোর্ট পর্যন্ত বানিয়ে ফেলার তথ্যও উঠে আসে তদন্তে। এরপরই পাসপোর্টের জন্য আবেদন যাচাইয়ে পুলিসি ভেরিফিকেশন নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে রাজ্য পুলিসের এসটিএফ। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এরই পাশাপাশি রয়েছে কলকাতা পুলিসের এসটিএফ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং জেলা ভিত্তিক ডিআইবি। পাসপোর্টের আবেদন কীভাবে যাচাই হতো এতদিন? সূত্রের খবর, এতদিন নির্দিষ্ট কোনও ডেটাবেস রাখত না পুলিস। পাসপোর্ট অফিস থেকে ভেরিফিকেশনের জন্য আসা তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলার ডিআইবি অথবা সিটি পুলিসের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভেরিফিকেশন করে ছেড়ে দিত। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর তরফে জমা করা অন্যান্য ভারতীয় পরিচয় পত্র, বিভিন্ন শংসাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে যাচাই করার সুযোগ ছিল না। জেরক্স করা শংসাপত্রগুলি আবেদনকারীর কাছে থাকা অরিজিনাল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হতো মাত্র। কিন্তু এবার এই প্রক্রিয়াতেই রদবদল হয়েছে। 
কোন কোন ক্ষেত্রে বদল আসছে? রাজ্য পুলিসের একটি সূত্র বলছে, ইতিমধ্যেই একটি অ্যাপ তৈরি করেছে এসটিএফ। সেখানে আধার, ভোটার কার্ড সংক্রান্ত ডেটাবেস থাকবে। যেকোনও পাসপোর্ট আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ‘ডেটাবেস’ থেকে যাচাই করা হবে। যাতে পরবর্তীতে কোনও অপরাধ ঘটলে সেই ডেটাবেস ধরে সমস্ত নথি পাওয়া যায়। পাসপোর্ট আবেদনকারীর বাড়ির ছবি সহ জিপিএস ট্র্যাকিং যেমন করা হচ্ছে, তেমনই আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া অন্যান্য কাগজপত্র আলাদা আলাদা ভাবে ভেরিফাই করার দায়িত্ব এসটিএফের। আবেদনকারী ভোটার কার্ডের তথ্য জমা দিলে, যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহকুমার ইলেকশন সেলে। প্যান কার্ডের ক্ষেত্রে যাচাই হবে আয়কর দপ্তর থেকে। আবার যদি কেউ মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা করেন, তা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে শিক্ষা পর্ষদে। এতদিন এত খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হতো না। আধিকারিকরা বলছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং পাসপোর্ট জালিয়াতি থেকে শিক্ষা নিয়েই এই বদল। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিসের এক কর্তা বলেন, এতদিন আবেদনকারীর জমা দেওয়ার তথ্য শুধুমাত্র তাঁর কাছে থাকা আসল কপির সঙ্গেই যাচাই করে নিত ডিআইবি অথবা এসবি। এবার সেগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠানো হচ্ছে। বাড়ির ছবি সহ জিপিএস ট্র্যাকিং রিপোর্ট, ফিল্ড ভেরিফিকেশন সহ সমস্ত তথ্য এসটিএফের ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ