নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তাহেরপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশের ঢিলেঢালা তদন্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ নাবালিকার পরিবার ও গ্রামবাসীরা। প্রতিবাদে তাঁরা রবিবার রানাঘাট-তাহেরপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও ঘটনাস্থল মাড়ায়নি ফরেনসিক দল। ঘটনাস্থল থেকে জিনিসপত্র উধাও হয়ে যাচ্ছে বলেও গ্রামবাসীদের অভিযোগ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলক রায়চৌধুরী বলেন, পুলিশের তদন্তের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাদের তরফে তেমন কোনও উদ্যোগও চোখে পড়েনি। খুনের অস্ত্র অথবা মেয়েটির ফোন কোনওটাই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কী করে আস্থা রাখব? এদিকে, পুলিশের প্রতি এই জনরোষ নিয়ে এসডিপিও রানাঘাট সবিতা গটিয়ালকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত ঠিকমতোই এগচ্ছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ হচ্ছে। তবে খুনের অস্ত্র আমরা পেয়েছি কি না, তা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখাই শ্রেয়।
এদিকে কামগাছি শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দারা নাবালিকা খুনে অভিযুক্ত শুভ ওরফে প্রণজিৎ মণ্ডলের চালচলন নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁরা বলছেন, ছেলেটি একেবারেই বখে যাওয়া। রাতভর নেশা করত সে। ছোট এক কামরার জানাল বিহীন ঘরে তারস্বরে বাজত গান। দিনভর সে ওই ঘরে নিজেকে বন্দি কর. রাখত। সন্ধের পরই খুলত তার ঘরের দরজা। গত কয়েকমাসে তার চালচলনে এসেছিল বিরাট বদল।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের ঈশিতা খুনের আবহেই রানাঘাটের তাহেরপুরে আরও এক প্রেমঘটিত নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে যায়। কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কামগাছি শ্যামনগরের বাসিন্দা অনুষ্কা মণ্ডল (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর কাছে প্রেম নিবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয় অভিযুক্ত প্রণজিৎ মণ্ডল ওরফে শুভ। সে ওই কিশোরীর প্রতিবেশী ছিল। শুক্রবার রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগ নিয়ে বাড়ির উঠোনে পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে অনুষ্কাকে তুলে নিয়ে যায় শুভ। এরপর তার বাড়ির অনতিদূরে একটি পুকুরপাড়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করে ওই কিশোরীকে। পরে সেখানেই দেহ ফেলে রেখে নিজের ঘরে ফিরে আসে সে। এলাকাবাসী তার রক্তমাখা হাত দেখে সন্দেহের বসে চেপে ধরলে খুনের কথা স্বীকার করে সে। পুলিশ কেবল স্থানীয়দের হাত থেকে শুভকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে গ্রেফতার করে।
কেমন ছেলে ছিল শুভ? পড়শি কল্পনা মণ্ডল বলছেন, জানলাবিহীন একচিলতে টিনের ঘর শুভদের। রাত বাড়লেই বাড়ত সেই ঘরের ভিতর থেকে গানের আওয়াজ। আড়ালে আবডালে বেশ বোঝা যেত, নেশাচ্ছন্ন থাকত সে। সারাদিন বাড়ির দরজা খুলত না। একমাত্র সন্ধেবেলায় তাকে বেরতে দেখা যেত। তারপর ফের ঘরে। ওড়িশায় হকারি করা শুভর বাবা নিয়মিত যে টাকা পাঠাতেন, তা নয়ছয় হতো বেশি। তাই গত কয়েক মাস আমাকেই ২০০০ টাকা করে দিচ্ছিলেন ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য। অধিকাংশ সময়ে ডেকে ডেকে ভাত খাবার কথা বলে আসতে হতো। ঘটনার দিনও ভাত দিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু খায়নি। এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবি, খুনের অস্ত্র এখনও উদ্ধারই করতে পারেনি তাহেরপুর থানা। উদ্ধার হয়নি মেয়েটির মোবাইলও। ফলে আদালতে আদৌ কি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরতে পারবেন তদন্তকারীরা, উঠছে সেই প্রশ্ন।
• চলছে বিক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র