নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে না পারায় শুক্রবার ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস’কে সুপ্রিম কোর্টের ভৎর্সনার মুখে পড়তে হল। কলকাতা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা বিচারাধীন থাকার পরেও কেন রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ অদালতে আবেদন করেছে, তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। তাই একপ্রকার পত্রপাঠ রাজ্য সরকারের এই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা খারিজ করে দিল বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলক আরাধের বেঞ্চ। জানিয়ে দিল, কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার নিষ্পত্তি করবে।
সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না, এই অভিযোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নার্সিং অ্যান্ড রিসার্চ’ নামে কল্যাণীর এক বেসরকারি নার্সিং কলেজের বিএসসি নার্সিংয়ের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা নিতে অস্বীকার করে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। ৩০ জন ছাত্রী পড়ে বিপদের মুখে। ছাত্রীরা এবং উল্লেখিত কলেজটি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে।
২৬ জুন শুনানিতে আদালত জানায়, কলেজটি ৩০ জুন বিএসসি নার্সিংয়ের ফার্স্ট সেমিস্টার পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড দিতে পারবে। পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে পারবে। কিন্তু হাইকোর্টের ওই নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন গাইডলাইন এবং ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের এন্ট্রান্স টেস্টের নিয়ম সঠিকভাবে পালন হবে না বলেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের দাবি। তাই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। মামলায় বিবাদী করা হয় তানিস্ক দেবনাথ, কোয়েল বিশ্বাসের মতো ৩০ জন ছাত্রীকে। যাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারেনি। শুনানির গোড়াতেই রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, কেন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি? হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও কেন এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন? স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী তাঁর আবেদনের স্বপক্ষে বোঝানোর চেষ্টা করলেও মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।