নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চীনা ‘আগ্রাসন’ আর পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে বাংলাদেশের ‘আস্ফালন’ রুখতে উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কাজ শুরু করল রাজ্যের নতুন সরকার। নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝে ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে থাকা ৫০ কিমি দীর্ঘ এবং ২০-২১ কিমি চওড়া এই ভূখণ্ড থেকে চীন এবং ভুটান সীমান্তও খুব কাছে। দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ডে সেনা ও আধাসেনা চৌকি এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। আজ, বুধবার বিকেলে নবান্নে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তর করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে ভারতীয় সেনা এবং ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশকে (আইটিবিপি)। প্রসঙ্গত, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ অংশকে অপারেশন সিন্দুর পর্বে ‘এস-৪০০’এর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বাঁধা হয়েছিল।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনি পর্বে পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অভিযোগ ছিল, ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য চিকেনস নেকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত চৌকির জন্য প্রয়োজনীয় জমিও মমতা সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করেনি, এমনটাও অভিযোগ ছিল। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকারে এসে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে হস্তান্তরের ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। সেই ডেডলাইন ধরেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অংশের সাতটি রাস্তা এতদিন রাজ্য পূর্ত দপ্তরের ন্যাশনাল হাইওয়ে উইং দেখভাল করত। হাসিমারা-জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ, বারদিঘি-ময়নাগুড়ি-চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ এবং শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)-কার্শিয়াং-দার্জিলিং পর্যন্ত অংশের সমস্ত রাস্তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পারেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে শিলিগুড়িতে আইটিবিপিকে ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার তৈরির জন্য ১১০ একরের বেশি জমি দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। একই ভাবে এই অঞ্চলে বিএসএফকে প্রায় ছয় থেকে আট একর এবং চিকেনস নেক অঞ্চলের অন্তর্গত উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় ভারতীয় সেনাকে ১২০ একর জমি দ্রুত হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। নতুন সরকার আসার পরে রেকর্ড সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০ একর বেশি জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সেই জমিই আজ মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফকে হস্তান্তর করবে বলেই সূত্রের খবর। তার সঙ্গে বিএসএফকে হস্তান্তর করা হবে আরও ৩০ একরের বেশি খাস জমি। এছাড়াও সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও প্রায় ৮৮ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তরের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত জমি ব্যবহার করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি তৈরি হবে বিএসএফ’এর প্রস্তাবিত বর্ডার আউটপোস্টও।