Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট পুরসভায় পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার

রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

রামপুরহাট পুরসভায় পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের শহর রামপুরহাট। আশিসবাবুও তৃণমূলের জেলা কোর কমিটি ও জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই পুরবোর্ড সরাসরি না ভাঙলেও অধিকাংশ কাউন্সিলার পুরসভামুখী হচ্ছেন না। এই অবস্থায় কাউন্সিলারদের প্রতি ভরসা না রেখে পুর পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার। আগামী শুক্রবার রামপুরহাট মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অ্যান্ড ডেপুটি ক্যালেক্টর ত্রিভূবন নাথ এই পুরসভার দায়িত্ব নেবেন। তার আগে বুধবার এলাকার বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা এবং হবু প্রশাসক পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠক করেন। এদিকে এদিন গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে ও পদ্ম ফুলের তোড়া দিয়ে বিধায়ককে সংবর্ধনা জানান তৃণমূল পরিচালিত পুর চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত। যা শহরে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

Advertisement

২০২২ সালে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল জিতেছিল। সেই সময় রাজনৈতিক একাধিপত্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের ভয় দেখানো ও প্রার্থীপদ প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিক ছাপ্পা ভোট রুখে দিয়ে জয়ী হয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন। গত চার বছরে পুরসভার বিরুদ্ধে ‘হাউজিং ফর অল’ (সবার জন্য বাড়ি) প্রকল্প সহ একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে এসেছে।  অবশেষে বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গেসঙ্গেই সেই পুরানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। গত ৪ মে ফলপ্রকাশের পরের দিনই পুরসভায় ঢুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপির নেতা, কর্মীরা। যে কাউন্সিলাররা একসময় একতরফা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরা এখন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় পুরসভামুখী হতে ভয় পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পুর পরিষেবা সচল রাখতে আগামী শুক্রবার রামপুরহাটের মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি কালেক্টর ত্রিভূবন নাথ পুরসভার দায়িত্বভার নেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে বুধবার এলাকার বিধায়ক ধ্রুব সাহা ও হবু প্রশাসক ত্রিভূবন নাথ পুরসভায় এসে কতজন স্থায়ী, অস্থায়ী, স্যানিটারি কর্মী রয়েছেন সেসব খোঁজখবর নিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নতুন প্রশাসন দ্রুত পুর পরিষেবা নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। 
এদিকে, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারম্যান যেভাবে বর্তমান শাসকদলের বিধায়ককে পদ্মফুল ও গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন, তাতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, চেয়ারম্যান কি নিজেই এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন, নাকি পদ টিকিয়ে রাখার এটি একটি কৌশল? যদিও চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি বিধায়ককে নিয়মমাফিক কেবল ‘সংবর্ধনা’ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিধায়ক বলেন, ডিএমডিসি পুরসভার দায়িত্বভার নেবেন। সেজন্যই পুরসভায় আসা। 
এদিন পুরসভার স্থায়ী কর্মীদের নিয়েও একটি বৈঠক করেন বিধায়ক ও ডিএমডিসি। সেখানে বৈঠকে অবশ্য চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি। বৈঠক শেষে বিধায়ক সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল ‘অগণতান্ত্রিকভাবে’ এই পুরবোর্ডের ক্ষমতায় এসেছিল। তাই কর্মচারীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ