নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তথ্য-প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের জন্য রাজ্যে রেশন গ্রাহকদের খাদ্যসামগ্রী বণ্টন ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে ‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা চালু করেছে সেটা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এই সমস্যা বেড়েছে বলে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে রাজ্য খাদ্যদপ্তর। খাদ্যদপ্তরের সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা এই ব্যাপারে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রীকে। কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। আগস্ট মাস থেকে রাজ্যে স্মার্ট পিডিএস চালু হওয়ার পর থেকে এই বিষয়টি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রককে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারপরেও সমস্যা মেটেনি। একটার পর একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে, যাতে রেশন গ্রাহক ও ডিলাররা উভয়েই অসুবিধায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য হায়দরাবাদ থেকে স্মার্ট পিডিএস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রযুক্তিবিদদের দুজনকে কলকাতায় স্থায়ীভাবে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যসচিব। তাঁরা এলে কোনো সমস্যা তৈরি হলে খাদ্যদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে। খাদ্যদপ্তরের বক্তব্য, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে রাজ্যে রেশন গ্রাহকদের সাধারণ চাল-গমের সঙ্গে পুজো প্যাকেজের বিশেষ খাদ্য প্যাকেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। খাদ্যবণ্টন করতে গিয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে এখনই।
রেশন ডিলারদেরসর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, নভেম্বর মাসের প্রথম কয়েকদিন তো কার্যত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া যায়নি। এর জন্য গ্রাহকদের হয়রানি হয়েছে। গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ডিলারদের। যদিও ডিলারদের এই ব্যাপারে কিছু করার ছিল না। অনলাইন ব্যবস্থা না চললে কাউকে খাদ্য দেওয়া সম্ভব নয়। খাদ্যসচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিলারদের একটা বড়ো অংশ ই-পস মেশিনে লগইন করতে পারেননি। কেউ কেউ লগইন করতে পারলেও লেনদেন মাঝপথে আটকে গিয়েছে। এর জন্য নভেম্বরের শুরুতে খুব কম সংখ্যক মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেওয়ার জন্য রাজ্য খাদ্যদপ্তরকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে ডিলারদের সংগঠন।



