নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়েও তদন্ত করবে রাজ্য সরকারের গঠিত কমিশন। আড়াই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়। ওই ঘটনায় কয়েকজন কর্মী গ্রেপ্তার হলেও চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের ধরা হয়নি বলে পড়ুয়াদের অভিযোগ। রাজ্যের কমিশন তদন্ত শুরু করলে কয়েকজন রাঘববোয়াল জালে জড়িয়ে যাবে বলে অনেকে মনে করছেন।
এক আধিকারিক বলেন, কমিশনে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। সমস্ত নথি দিয়েই তাঁদের সহযোগিতা করা হবে। নদীয়া, দিল্লি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা তোলা হয়েছিল। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের টাকা তছরুপ করা হয়েছে। যতক্ষণ না মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চলবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, মৎস্য, শিল্প, পিডব্লুডি, ভূমি, জিটিএ দপ্তরের বিভিন্ন বিষয়ের তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রাক্তন এক বিচারক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন। কমিশনকে সবরকম সহযোগিতা করার জন্য ওই দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন ১০০দিনের কাজ, উমপুনে ত্রাণ বণ্টন নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। এছাড়া মিড ডে মিল নিয়েও নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সেই সবও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অতীতে কাউকে মিথ্যা কেস দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে দিকটাও কমিশনের সদস্যরা দেখবেন।
অন্যান্য বিষয়গুলির পাশাপাশি শিক্ষাদপ্তরের অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরেই শোরগোল রয়েছে। একধিক তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। কিন্তু তারা শিকড়ে পৌঁছাতে পারেনি বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেলেঙ্কারি হয়েছে। প্রতিটি বিষয় নির্দিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দু’কোটি টাকা তছরুপের ঘটনায় যত বড় মাথা যুক্ত থাক না কেন গ্রেপ্তার করতে হবে।
এর আগেও এধরনের কেলেঙ্কারি হয়েছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখতে হবে। আশা করা যায়, কমিশন তদন্ত শুরু করলে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়েও নানা সময় স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। সেগুলিও তদন্ত করা দরকার। কয়েক মাস আগে চারজন নিয়োগ হয়েছে। তাঁদেরও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।