


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একাধিক রায়ের প্রেক্ষিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ অনুসরণে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে ছ’মাস পর্যন্ত জেল এবং আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যথাযথ সরকারি শংসাপত্র ছাড়া কেউই ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, মহিষ বলি অথবা জবাই করতে পারবেন না।
কে দেবে এই শংসাপত্র? সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র থাকতে হবে। পশুটির বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি কাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত হতে হবে। বার্ধক্য, বড় কোনো আঘাত, বিকৃতি বা দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে পশুটি স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেক্ষেত্রে শংসাপত্র মিলবে। শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসন বা পুরসভা দ্বারা নির্ধারিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে পশু। প্রকাশ্য স্থানে বা জনসমক্ষে পশু বলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি পশু চিকিৎসক বা নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যখন স্লটার হাউস পরিদর্শনে যাবেন, তাঁর কাজে কেউ বাধা দিতে পারবেন না। সরকারি এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন ভাঙলে অপরাধীর ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তির শংসাপত্র পাওয়ার আবেদন খারিজ হলে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন। এই সংক্রান্ত সমস্ত রায় ও বিস্তারিত তথ্য রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbard.gov.in-এ দেখতে পাওয়া যাবে।