Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেতু নয়, দামোদরে জেটি গড়তে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র

সেতু নয়, দামোদরে জেটি গড়তে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সেতু নয়, দামোদরে জেটি গড়তে উদ্যোগী কেন্দ্র। শনিবার কেন্দ্রীয় জাহাজ, বন্দর ও ওয়াটারওয়ে মন্ত্রকের ডিরেক্টর রবীন্দ্রকুমার সিংয়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বার্নপুরে দামোদর নদের ঘাট পরিদর্শন করেন। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশের সাঁকোর উপর থেকেই সেখানে জেটি গড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, এলাকাটি আমাদের অধীনে রয়েছে কিনা দেখা হবে। আমাদের অধীনে থাকলে সেখানে ফ্লোটিং জেটি গড়া হবে। স্থানীয় বিধায়ক জেটি গড়ার পাশাপাশি মন্ত্রককে যাতায়াতের জন্য বোট দেওয়ার আর্জি জানান। তারপরই তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন। পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। যদিও এলাকাবাসীর দাবি, জেটি নয় তাঁদের প্রয়োজন স্থায়ী সেতু। তাহলেই দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে। 
Advertisement
বার্নপুরে ইস্কোর নেহরু পার্কের পিছ঩নেই রয়েছে দামোদরের ঈশ্বরদা ঘাট। বর্ষার সময়ে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তখন প্রাণ হাতে নিয়ে নৌকায় করে দামোদর পারাপার করেন হাজার হাজার মানুষ। অন্য সময়ে দুর্বল অস্থায়ী সেতু দিয়েই প্রাণ হাতে নিয়ে পারাপার চলে। এখানে সেতু হলে শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ উপকৃত হবেন। ব্রিজ তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রামবিলাস পাসোয়ান কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী থাকাকালীন এখানে ব্রিজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকেও একবার ব্রিজ তৈরির জন্য সার্ভে করা হয়। ভোটের সময় ব্রিজ গড়া নিয়ে রাজনৈতিক দলের তৎপরতা দেখা গেলেও মোট মিটতেই তা ঠান্ডা ঘরে চলে যায়। 
এদিন ফের নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে পড়ে। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের একটি প্রতিনিধি দল নদীঘাটে আসে। তাঁরা জানান, এখানে জেটি গড়া সম্ভব। কিন্তু দামোদরের কিছু অংশ মন্ত্রকের সরাসরি অধীনে রয়েছে কিছু অংশ রাজ্যের অধীনে আছে। এই অংশটিতে সরাসরি কেন্দ্র কাজ করতে পারবে কিনা তা দেখে নিতে হবে। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা বলেন, যা করার আপনাদেরই করতে হবে। রাজ্য কিছু করবে না। আমি এখানে ব্রিজ গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সড়কমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সড়কের নির্দিষ্ট দূরত্ব অবধি তারা সেতু বানাতে পারে। তা ছাড়া পারে  না। তারপর কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের কাছে গিয়েছি। সেতু বানাতে পারবেন না, তবে জেটি বানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন। এদিন তিনিই পরিদর্শনের জন্য টিম পাঠিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী, এখানকার মন্ত্রী মলয় ঘটক এখানে ব্রিজ বানানোর কথা বললেও তারা তা করেনি। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ব্রিজ তৈরিতে উদ্যোগী হোন। প্রয়োজনে কেন্দ্র থেকে টাকা চান।
রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, পূর্তদপ্তর থেকে সেতুর জন্য সার্ভে করে ঩ব্রিজের জন্য কেন্দ্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তিন বছর ধরে তা দেওয়া হয়নি। আমরাই দামোদরের উপর শিল্পসেতু করছি। বিজেপি শুধু ভাঁওতা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। 
এলাকার বাসিন্দা পায়েল কুম্ভকার, রবিন দে, জ্ঞান সিংরা বলেন, জেটি গড়ে কোনও লাভ হবে না। আমরা চাই এখানে সেতু তৈরি করা হোক। দামোদর বিহারীনাথ সেতু বন্ধন কমিটির সভাপতি সুবল চক্রবর্তী বলেন, বর্ষাকালে জেটিতে সুবিধা হবে ঠিকই। কিন্তু আমরা সেতু চাই। জেটি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ