নয়াদিল্লি: বরাবরই মিতবাক প্রয়াত প্রধামন্ত্রী মনমোহন সিং। কখনও শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করেননি। এজন্য বারবার তাঁকে ‘মৌন মোহন’ কটাক্ষ হজম করতে হয়েছে। তবে কখনও কখনও আপাত গাম্ভীর্যের সেই মোড়ক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। তখন ধরা পড়েছে মনমোহনের পরিহাসপ্রিয় রূপ। সেটা ২০১১ সালের মার্চ। উইকিলিকসের গোপন কেবল নিয়ে উত্তাল সংসদ। তাতে দাবি করা হয়, ২০০৮ সালে আস্থা ভোটে জিততে সাংসদদের ঘুষ দিয়েছিল কংগ্রেস। মনমোহন সরকারকে বিদ্ধ করে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘তু ইধার-উধার কি না বাত কর, ইয়ে বতা কি কাফিলা কিঁউ লুটা, হামে রাহজানো সে গিলা নেহি, তেরি রেহবারি কে সওয়াল হ্যায়।’ (বিষয় বদল করবেন না। কেবল বলুন কোষাগার কেন লুট হল? লুটেরাদের নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে আপনার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।) উত্তর দিতে মনমোহন সেবার বেছে নিয়েছিলেন আলমা ইকবালের কবিতার পংক্তি। মনমোহন বলেছিলেন, ‘মানা কি তেরি দিদ কি কাবিল নেহি হুঁ ম্যায়, তু মেরা শওক দেখ, মেরা ইন্তেজার দেখ।’ (জানি আমি তোমার মনোযোগের যোগ্য নেই। তবে আমার উদ্যম দেখুন, আমার আকাঙ্ক্ষা দেখুন।’)
Advertisement
২০১৩ সালেও এমনই একটি কবিতার লড়াই নজর কেড়েছিল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিতর্কে মনমোহন মির্জা গালিবকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘হামে উনসে হে ওয়াফা কি উমমিদ, জো নেহি জানতা ওয়াফা কেয়া হে’ (আমি এমন একজনের কাছে ভালোবাসা চেয়েছি যে জানেই না, ভালোবাসা আসলে কি)। স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে সুষমা তখন বলে ওঠেন, ‘কুছ তো মজবুরিয়াঁ রহি হোঁগি, ইঁউ হি কোই বেওয়াফা নেহি হোতা। (কোনও বাধ্যবাধকতা তো রয়েইছে। কেউ কি আর এমনি এমনি ভালোবাসাকে অস্বীকার করে।) এখানেই শেষ নয়। সংবাদিকের দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে মনমোহন বেছে নিয়েছিলেন সেই উর্দু কবিতাকেই। বলেছিলেন, ‘হজারো জবানো সে আচ্ছি হ্যায় মেরি খামোশি। জো কই সওয়ালোঁ কি আব্রু ঢক লেতি হে।’ (হাজারো বুলির থেকে আমার নীরবতা অনেক ভালো। নয়তো অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসবে।’ এটাই ছিল মনমোহনের আদর্শ যা মেনেছেন জীবনভর।



