নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জনপ্রতিনিধি হয়ে গেলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটে। তা দেখে এখন অভ্যস্ত আমজনতা। দামি গাড়ি, সামনে-পিছনে অনুগামী নিয়ে চলাফেরা করাটাই এখন যেন দস্তুর। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। যেমন আমডাঙার সাধনপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান অলোক বাগ। চারজনের সংসার চালাতে ৩০০ টাকার দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। এই ছাপোষা জীবনযাত্রা দেখে গর্ববোধ করেন তাঁর প্রতিবেশীরা পর্যন্ত।
Advertisement
অলোকবাবুর বাড়ি সাধনপুর পঞ্চায়েতের খোরু গ্রামে। তাঁর বাবা বিশ্বনাথ বাগ পেশায় কৃষক। মা মায়াদেবী গৃহবধূ। তাঁরা দু’ভাই। অলোকবাবু বড়। নিজেদের কিছু জমি রয়েছে তাঁদের পরিবারের। তিনি সক্রিয়ভাবে তৃণমূল করেন। ২০২৩ সালে প্রথমবার পঞ্চায়েত ভোটে লড়েন। জেতেন। তারপর দল তাঁকে আনে প্রধান পদে। প্রধানের চেয়ারে বসলেন বটে অলোকবাবু কিন্তু জীবনযাত্রার কোনও পরিবর্তন হল না। ৩৫ বছর বয়স তাঁর। বিয়ে করেননি। প্রধান হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। তাই চাপ সামলাতে প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠেন। জামা-লুঙ্গি পরে মাথায় গামছার ফেট্টি বেঁধে যান জমিতে। গ্রামের কয়েকজন সঙ্গী তাঁর। তাঁদের সঙ্গে কাদাজমিতে নেমে কাজ করেন। সঙ্গে পান্তা ভাত থাকে। খিদে পেলে তরকারি দিয়ে খেয়ে নেন। কাজ সেরে ফেরেন ১০টা নাগাদ। ততক্ষণে বাড়িতে ভিড় জমে যায়। বহু মানুষ অপেক্ষা. থাকেন। কেউ এসেছেন প্রধানের সই নিতে। কেউ এলাকার কোনও সমস্যা নিয়ে। সকাল ১১ টা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করেন। তারপর যান পঞ্চায়েত অফিস। অলোকবাবুর বাড়ি থেকে সাধনপুর পঞ্চায়েতের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। সাইকেল চালিয়ে যান। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পঞ্চায়েতের কাজ করেন। তারপর দলের কাজ শুরু। রাত ১০টায় ফেরেন বাড়ি। তারপর রাতের খাওয়া সেরে ঘুমোতে যান। এটিই রোজনামচা একজন পঞ্চায়েত প্রধানের। গ্রামের মানুষ অলোককে ভাবেন ঘরের ছেলে। তাঁকে নিয়ে গর্ব অনুভব করেন। প্রধানের দিনমজুর সঙ্গী প্রতাপ, প্রহ্লাদ প্রামাণিক। তাঁরা বলেন,‘অলোক আগের মতোই আছে। আগেও জমিতে দিনমজুরের কাজ করত। প্রধান হওয়ার পরও একই রয়েছে। পরিবারের বড় ছেলে বলে ওর দায়িত্ব বেশি। আমরা চাই ও আমাদের ভাইয়ের মতোই থাকুক।’ অলোকবাবু অবশ্য তাঁর কাজে বিশেষ কিছু বিষয় আছে বলে দেখতে পান না। বলেন, ‘এটা আমার পেশা, তাই করছি। ভাই গ্রামের একটি জলের ট্যাঙ্কে জল ছাড়ার কাজ করে। মাইনে খুবই কম। আমি প্রধান হিসেবে যে টাকা পাই তাতে সংসার চলে না। তাই অন্য একজনের জমিতে ৩০০ টাকা রোজে জনমজুরের কাজ করি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া ও অন্যান্য সরকারি কাজকর্মও করি। মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শ সামনে রেখে এগতে চাই।’ তাঁর এই সাধারণ জীবনযাত্রার প্রশংসা করেন বিরোধী দলের নেতারাও। আইএসএফ নেত্রী হালিমা বিবি বলেন, ‘প্রধান ভালো মানুষ। সাদামাটা জীবনযাপন করেন।’



