Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির টোপ দিয়ে যুবককে অপহরণ, ধৃত তিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির টোপ দিয়ে যুবককে অপহরণ, ধৃত তিন
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির টোপ দিয়ে এক যুবককে অপহরণের অভিযোগ উঠল তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে লিলুয়ার ভট্টনগরে। দুষ্কৃতীদের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে এক ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেছে লিলুয়া থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন দুষ্কৃতীকে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রতন তেওয়ারি, সৌম্য পালিত ও আকাশ পান্ডে নামে লিলুয়ার তিন বাসিন্দা বেশ কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বেসরকারি ডেলিভারি সংস্থায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। লিলুয়ার জগদীশপুর দেবীপাড়ার বাসিন্দা রবিশঙ্কর কেশরী সেই পোস্ট দেখে চাকরির আবেদন করেন। রবিশঙ্করকে একটি কোম্পানির সুপারভাইজার পদে নিয়োগ করা হবে বলে টোপ দেওয়া হয়। এরপরেই সোমবার দুপুরে তাঁকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে লিলুয়ার ভট্টনগর বাসস্ট্যান্ডের সামনে আসতে বলা হয়। রবিশঙ্কর সেখানে গেলে ওই তিন দুষ্কৃতী তাঁকে সূর্যনগর এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে রবিশঙ্করকে বেঁধে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুষ্কৃতীরা। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়িতে ফোন করতে বলা হয়। অপহৃত যুবক স্ত্রীকে ফোন করে ঘটনার কথা জানালে আতঙ্কিত পরিবার ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে দুষ্কৃতীদের পাঠানো একটি ফোন নম্বরে অনলাইনে পাঠিয়ে দেয়। এরপরেই পরিবারের লোক দ্বারস্থ হয় লিলুয়া থানায়। রবিশঙ্করের ভাইপো ঋত্বিক কেশরী বলেন, ‘প্রথমে আমাদের ফোন করে বলা হয় কাকা ৪০ হাজার টাকা ধার করেছে। সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরপর কাকাকে আটকে রাখা হয়েছে বলে মুক্তিপণ দাবি করেছিল ওরা।’
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘কিডন্যাপারদের যে নম্বরে অনলাইনে মুক্তিপণের টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেই নম্বরের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই পুলিসের একটি বিশেষ দল ভট্টনগর নগরের ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। সুস্থ অবস্থায় অপহৃত যুবকদের উদ্ধার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে কিডন্যাপ সহ একাধিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।’ এদিন ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিডন্যাপিংয়ের ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিস।
সম্পর্কিত সংবাদ