Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

সূর্যের সাতকাহন স্বরূপ কুলভী

সূর্যের সাতকাহন
স্বরূপ কুলভী
  • ২ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
রা ঝিলমিল রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে কার না ভালো লাগে! ছোট্ট ছোট্ট তারাগুলো কেমন মিটমিট করে আলো দেয়। কিন্তু সত্যিই কি তারারা এত ছোট। মোটেই নয়। ছোট্ট বন্ধুরা, একথা তো তোমরা সবাই জানো। তারাগুলো আসলে সুবিশাল। যেমন আমাদের সূর্য। এটা তো আসলে একটা তারা বা নক্ষত্র। এটি আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র। অন্য নক্ষত্রগুলো আমাদের থেকে বহু দূরে। তাই খুব ছোট দেখায়। কিন্তু সূর্য থেকেই আমাদের পৃথিবী আলোকিত হয়। পৃথিবী সৌর মণ্ডলের একটা গ্রহ। আর এই সৌর জগতের অধিপতি হল সূর্য। তাকে কেন্দ্র করেই গ্রহগুলি ঘুরছে। পৃথিবীতে যে প্রাণ টিকে রয়েছে, তা সূর্যের আলোর ছোঁয়াতেই। সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে গাছপালা সেই আলো দিয়ে তৈরি করে খাবার। আর তৈরি করে অক্সিজেন। এই অক্সিজেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে গাছ যে খাদ্য তৈরি করে, সেটাই প্রাণীজগতের খাবারের মূল রসদ। যুগ যুগ ধরে মানুষ সূর্যের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। তবে প্রাচীনকালে বিশ্বাস ছিল, সূর্যই পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তা যুক্তি দিয়ে তা নস্যাৎ করেন। এব্যাপারে গুপ্তযুগের আর্যভট্ট এবং পরে ইউরোপীয় বিজ্ঞানী কোপারনিকাস ও গ্যালিলিও সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিয়েছিলেন। তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন,  সৌরমণ্ডলের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য, পৃথিবী নয়। সূর্যকে কেন্দ্র করেই বাকিসব গ্রহগুলি নিজেদের কক্ষপথে ঘোরে। 
Advertisement
সৌরমণ্ডলে সবচেয়ে বড় বস্তু হল সূর্য। সৌর পরিবারের মোট ভরের ৯৯.৮ শতাংশই সূর্যর। সৌরমণ্ডলের এই নক্ষত্রের পেটে আমাদের পৃথিবীর মতন ১০ লক্ষের বেশি গ্রহ হেসেখেলে এঁটে যাবে। সূর্য অগ্নিকুণ্ড। এর পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ১০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। সেলসিয়াস স্কেলে ৫ হাজার ৫০০ ডিগ্রি। সূর্যের একেবারে কেন্দ্রের তাপমাত্রা ২ কোটি ৭০ লক্ষ ফারেনহাইট বা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। আমাদের এখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই হাঁসফাঁস অবস্থা হয়। তাহলে বুঝতেই পারছ, সূর্যের তাপমাত্রা ঠিক কত বেশি। আমাদের সৌরমণ্ডল রয়েছে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে নক্ষত্রপুঞ্জে। এখানে প্রায় ১০ হাজার কোটির বেশি নক্ষত্র রয়েছে। এরমধ্যে  সূর্য একটি মাঝারি মাপের নক্ষত্র। সূর্যের ব্যাস ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার। ব্যাস কি জানো তো? একটি বৃত্তের মাঝ বরাবর অর্থাৎ কেন্দ্রকে একদিক থেকে অন্যদিকে পর্যন্ত টানা রেখাই হল ব্যাস। পৃথিবীর চেয়ে সূর্যের ব্যাস ১০৯ গুণ বেশি। 
 আমরা জানি মহাবিশ্বে কোনও কিছুই স্থির নয়। তাহলে সূর্যও কি ঘোরে? হ্যাঁ, সুয্যিমামাও নিজের অক্ষের চারপাশে এবং  মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চারপাশেও ঘোরে। সূর্য প্রায় ২৭ দিনে তার নিজের অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরে আসে। সূর্যের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন গতিতে ঘোরে। নির্দিষ্ট কয়েকটি সৌরকলঙ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা সূর্যের নিজ অক্ষরেখার চারপাশে আবর্তন প্রক্রিয়ার হিসেব কষেছেন।  সূর্য নিজের চারদিকে ঘোরার পাশাপাশি আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথে ভিতর দিয়ে নিজে কক্ষপথে গ্যালাকটিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। গ্যালাকটিক সেন্টার কী? আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র হল গ্যালাকটিক সেন্টার। সূর্য একাই ঘোরে না! নিজের সংসার অর্থাৎ পৃথিবী সহ সৌরজগতের সমস্ত আত্মীয়স্বজনকে নিয়েই আকাশগঙ্গা ছায়াপথকে প্রদক্ষিণ করে সূর্য। সেকেন্ডে ২২০ কিলোমিটার গতিতে সমগ্র সৌরজগৎ নিয়ে একবার ঘুরতে সূর্যের সময় লাগে সাড়ে বাইশ থেকে পঁচিশ কোটি বছর। আর এই প্রদক্ষিণ সময়কে বলে গ্যালাকটিক বছর। হিসেব মতো সৃষ্টির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ বার গ্যালাকটিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে সূর্য ঘুরতে পেরেছে। সূর্যের এই কক্ষপথ মোটামুটিভাবে উপবৃত্তাকার।
সম্পর্কিত সংবাদ