নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে সরস্বতী পুজোয় বেপরোয়া গতির সাক্ষী রইল পূর্ব মেদিনীপুর। ২৪ঘণ্টায় ১০টির বেশি পথ দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হল। স্কুলছাত্র সহ প্রায় ২০জন জখম হয়েছেন। বাইকের দাপটে নিরীহ পথচারীও জখম হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। গত ২৭-৩১জানুয়ারি জেলাজুড়ে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন হয়েছে। সেখানে বাইকের দৌরাত্ম্য আটকাতে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। কিন্তু, সরস্বতী পুজোয় অল্পবয়সিরা যেভাবে বাইক হাতে বেপরোয়া হয়ে উঠল তাতে রাশ টানতে ব্যর্থ পুলিস। সোমবার নন্দীগ্রাম-তেরপেখ্যা রোডে বড়বাঁধ এলাকায় বেপরোয়া বাইক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আরও দু’জন। মৃতের নাম অভিজিৎ মান্না(১৮)। বাড়ি চণ্ডীপুর থানার নাটেশ্বরীচক গ্রামে। রাস্তার ধারে বালি পড়েছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই বালির স্তূপে বাইকের চাকা উঠে যায়। তিনজনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিজিৎকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুজোর দিন সুতাহাটা থানার দেউলপোতায় একই বাইকে থাকা স্কুলপড়ুয়া সহ তিনজন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের বাইকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা লাগে। তিনজনকেই হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দু’জনকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। মৃত ও জখমদের বাড়ি মহিষাদল ও চণ্ডীপুরে।
Advertisement
মঙ্গলবার সকালে চণ্ডীপুর থানা মোড়ে ১১৬বি জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় এক পুরোহিতের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম মদন আচার্য(৬৫)। তাঁর বাড়ি পটাশপুর থানার কুতুবপুর গ্রামে। সরস্বতী পুজো করার জন্য সরিপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি এসেছিলেন। এদিন সকালে বিসর্জনের পুজো সেরে বাইকে ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।



