Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিরাপ পাচার সিন্ডিকেট, মাথায় সাধু বেশে ‘মহারাজ’

সিরাপ পাচার সিন্ডিকেট, মাথায় সাধু বেশে ‘মহারাজ’
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণগঞ্জের বাঙ্কারকাণ্ডেও পুলিসের ঘুম কেড়েছে এক মহারাজ। সাধুর বেশে থাকা সীমান্তের কাশির সিরাপ পাচার চক্রের কিংপিন তিনি। সীমান্তের অন্ধকার জগতে ‘লাল মহারাজ’ বলে পরিচিত। তাঁকে নাগালে পেতে এখন হিমশিম অবস্থা পুলিস কিংবা এনসিবির। পুলিসের অনুমান, তিনি সাধুর সাজে গা ঢাকা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশে। সেখান থেকেই সীমান্তের লোকাল শাগরেদদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন। সচরাচর কাশির সিরাপ বাঙ্কারে পৌঁছলেই তা দ্রুত বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খলার কারণেই পাচার ব্যবসাতেও টান পড়ে। ফলে, সময়মতো অর্ডার না মেলায় ট্যাঙ্ক খালি করা যায়নি। আর সেটাই কাল হয় মহারাজের। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘এনসিবি গোটা বিষয়টার তদন্ত করছে। আমারে তাঁদের সহযোগিতা করছি। ভীমপুরের থানার একটা নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার মামলাতে একজনের নাম আমরা জানতে পারি। অনুমান করা হচ্ছে কৃষ্ণগঞ্জে যে বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সেটাও ওঁরই।‌ বর্তমানে তিনি পলাতক। নাগালে পেতে তল্লশি চলছে।  পাশাপাশি ওঁর অবৈধ সামগ্রী কোথায় কোথায় রয়েছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
গত শুক্রবার বিকেলে কৃষ্ণগঞ্জে থানার মাজদিয়া-নাঘাটা এলাকার একটি বাগান ও ঘরের ভিতর থেকে চারটি বাঙ্কারের হদিশ পায় বিএসএফ ও পুলিস। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একাধিক বিশালাকার ট্যাঙ্ক দেখে হতবাক হয়ে যান গোয়েন্দা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে বাজেয়াপ্ত হয় ৬২ হাজার ২০০ বোতল কাশির সিরাপ। যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ঘটনার তদন্তভার নিজের দায়িত্ব নেয় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। 
জানা গিয়েছে, যে জমিতে এই বাঙ্কারের অস্তিত্ব মিলেছে তার মালিক সুশান্ত ঘোষ। গ্রামবাসীদের কথায়, প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর ধরে এই ধরণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিস মাদক পাচারের কাণ্ডে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পূর্ব বর্ধমান পুলিসের হাতেও সে ধরা পড়েছিল অতীতে। গ্রামে কান পাতলে শোনা যায়, লাগাতার মাদক মামলায় নাম জড়ানোর কারণে দীক্ষা নিয়ে সাধুর বেশ ধরে সে। বছর তিনেক আগে সুশান্ত ঘোষ নাম বদলে হয় লাল মহারাজ। প্রতি বছর সেই এলাকায় সাতদিন ধরে বিশাল ভোজনের আয়োজন করেন তিনি। প্রতিদিন সেখানে প্রায় দশ লক্ষ টাকা খরচ করেন মহারাজ বাবাজি। অনুমান, সবাটাই হয় নাকি পাচার ব্যবসার টাকায়। এছাড়াও বাঙ্কার কাণ্ডে গিরি ঘোষের নামও কৃষ্ণগঞ্জের বাতাসে ভাসছে। তিনিই নাকি সিণ্ডিকেটের সেকেণ্ড ইন কমান্ড।
গতবছর ভীমপুর থানার পুলিস ২০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছিল। ঘটনাচক্রে সেই মামলার তদন্তে নেমেও পুলিস এই সুশান্ত ঘোষের নাম পায়। যোগীরাজ্য থেকে সেইসব কাশির সিরাপ সীমান্ত আনা হয়েছিল। পুলিসের অনুমান, বাঙ্কারকাণ্ডের জামির মালিক এবং ভীমপুরে কাশির সিরাপ পাচারে নাম পাওয়া সুশান্ত একই ব্যক্তি। তাঁর নামে ভীমপুর থানায় মামলা রয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ